ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৯ জুলাই ২০২৬: প্রশ্ন ফাঁস বিল নিয়ে আজও লোকসভায় বিতর্ক চলছে। বুধবার লোকসভায় এই বিল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী বলেন যে, দিল্লীর যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে ঘৃণা বা রাগ ছিল না। ছাত্রছাত্রীরা ভালোভাবেই বোঝে যে, পৃথিবী কীভাবে বদলে যাচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের দাবীগুলো ন্যায্য ছিল।
রাহুল গান্ধী বলেন, "এই দেশের রাস্তায় আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যা করেছে, তা দেখে আমি গভীরভাবে উৎসাহিত ও আশ্বস্ত হয়েছি। এটা কোনও রাগ ছিল না, এটা না হিংসতা আর না ঘৃণা ছিল। এটি ছিল এই দেশের যুবসমাজ এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের এক গভীর অভিব্যক্তি এবং আমার মনে হয় বিজেপিতে আমার বন্ধুদের সহ সকল রাজনৈতিক দলের এই অভিব্যক্তিকে সম্মান করা উচিৎ। আমি আত্মবিশ্বাসী যে বিজেপিতে আমার বন্ধুরা যদি গিয়ে তাদের সন্তানদের জিজ্ঞাসা করেন যে, তাঁদের ভাইবোনদের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে তারা কী ভাবছে? তবে তাঁরা তাঁদের নিজেদের সন্তানদের মধ্যেও একমত দেখতে পাবেন। যা ঘটেছে তাতে কোনও ভুল ছিল না এবং প্রত্যেক ভারতীয়ের এর জন্য গর্বিত হওয়া উচিৎ।"
লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, "আপনারা যুবদের ইডিয়ট বলেন। প্রত্যেক ভারতীয় ছাত্রদের নিয়ে গর্বিত। ছাত্ররা বোঝে পৃথিবী কীভাবে বদলাচ্ছে। যুবরা সত্যের পিছনে ছুটে বেড়ায়। সত্য তাঁদের কাছে মধুর। যুবরা খোলা মন ও চিন্তাভাবনার আর যাদের শেখার ইচ্ছা আছে তারাই ছাত্র। গান্ধীজি বলেছিলেন যে, বাড়ির জানালা সব ধরণের বাতাসের জন্য খোলা রাখা উচিৎ। আমি ছাত্রীকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে সে একজন ইডিয়ট সম্পর্কে কী ভাবেন? আর যে ছাত্র নয়, তার সম্পর্কেই বা কী? ছাত্রীটি বলেন যে, একজন ছাত্র গর্বের সাথে সত্যের পাশে দাঁড়ায়। অন্য ধরণের লোকেরা ভাবমূর্তি নিয়ে চিন্তা করে। একজন ইডিয়ট নিজেকে ঈশ্বর মনে করে এবং এর জন্য নিজের ভাবমূর্তি তৈরি করার চেষ্টা করে।"
রাহুল গান্ধী বলেন, "আমি ভেবেছিলাম ছাত্রও আছে আর ইডিয়টও আছে। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এই তৃতীয় বিভাগটি কোথায় যায় - অন্ধ ভক্তরা। এই তিনটি বিভাগ। অন্ধ ভক্ত নির্বোধকে অনুসরণ করে।" রাহুলের এই মন্তব্যে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। কিরেন রিজিজু বলেন যে, রাহুল গান্ধী অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করেছেন। স্পিকার বলেন, যেকোনও অসংসদীয় শব্দ বাদ দেওয়া হবে। রাহুল গান্ধী বলেন যে, আমি ‘ইডিয়ট’ শব্দটির পরিবর্তে অন্য একটি শব্দ ব্যবহার করব। এর জবাবে স্পিকার বলেন যে, এর জন্য আপনাদের কোনও বিধান করার প্রয়োজন নেই, আমি ইতিমধ্যেই বিধান করে রেখেছি।
কিরেন রিজিজুর আপত্তির জবাবে রাহুল গান্ধী বলেন, "আমি যদি অন্য কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে এটি ব্যবহার করি তবে তা সংসদীয় রীতির পরিপন্থী হবে।" তিনি স্পিকারকে উত্তর দেন, "আপনি যদি চান দেশে শুধু বিজেপিই কথা বলুক, আমি চুপ করে বসে থাকব। কোনও সমস্যা নেই। আমি যখনই কথা বলি, রিজিজু জি উঠে দাঁড়ান। আপনি তাঁকে সুযোগ করে দিচ্ছেন।" স্পিকার উত্তর দেন যে, এই সদনে সবসময়ই সুশৃঙ্খলতা ও শিষ্টাচার বজায় থাকে। আমাদের উচিৎ সেই শিষ্টাচার বজায় রাখার চেষ্টা করা। যারা সদনে মর্যাদা ও যুক্তির সাথে কথা বলেন, দেশ তাঁদের কথা শোনে এবং সম্মান করে। শব্দচয়ন সংসদীয় শিষ্টাচার অনুযায়ী হওয়া উচিৎ।
রাহুল গান্ধী প্রশ্নপত্র তৈরি, বিতরণ এবং মূল্যায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন যে, এটি এক্সাম সিস্টেম নয় এক্সটেনশন সিস্টেম। ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। রাজনাথ সিং বলেছিলেন যে, এটি ইউপিএ সরকার নয়, যেখানে মন্ত্রীরা পদত্যাগ করেন না। ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন, "শিক্ষা ব্যবস্থায় বেসরকারি সংস্থা জড়িত। বেসরকারি সংস্থাগুলো পরীক্ষা নিচ্ছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) শিক্ষা ব্যবস্থা দখল করে নিয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধান নন, আরএসএস-ই শিক্ষা মন্ত্রণালয় চালাচ্ছিল।"
কংগ্রেস সাংসদ আরও বলেন, "আপনারা ছাত্রদের গুলি করেন আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এখানে বসার সাহস নেই। আমি তাঁর গাড়িবহর দেখেছি; সেখানে ৩০টি গাড়ি ছিল। সেগুলো প্রচণ্ডভাবে কেঁপে উঠেছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভয় পেয়েছেন, তাই তিনি আজ এখানে নেই। শিশুদের ওপর পেলেট গান দিয়ে গুলি করা হয়েছিল। তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ) শিশুদের শক দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।" রাহুলের বক্তব্যে আপত্তি জানিয়ে কিরেন রিজিজু বলেন, "আপনি কোন ভিত্তিতে এই মন্তব্য করেছেন? আপনার ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। তাঁরা যদি তদন্তের দাবী করে, আমরা রাজি হব।" স্পিকার বলেন, "রাহুল জি, আপনার বিলটি নিয়ে কথা বলা উচিৎ। আপনি তদন্তের দাবী করতে পারেন, কিন্তু এমন কথা বলবেন না।
রাহুল গান্ধী আরও বলেন, "শুধুমাত্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই বলপ্রয়োগ করা হয়, অন্য কারও নির্দেশে নয়।" স্পিকার বলেন, "আমি বলার পরেও আপনি বারবার চেয়ারের আদেশ অমান্য করছেন; এটা ঠিক নয়।" সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গুলি চালানোর আদেশের একটি অনুলিপি (কপি) বের করুন। সদনে দেখান। আদেশের অনুলিপিটি দেখান এবং কোন আদেশ নম্বরের অধীনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোন আধিকারিককে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা জানান।" প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাহুল গান্ধী নবনিযুক্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে আক্রমণ করেন।

No comments:
Post a Comment