দৌসা: ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে যাত্রীবোঝাই বাস। ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে বাসে আগুন। রাজস্থানের দৌসায় এই সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার ভোরে দুর্ঘটনাটি দিল্লী-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়েতে ঘটেছে। জানা গেছে, হরিদ্বার থেকে ইন্দোরগামী একটি বাস একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। ধাক্কার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বাসটিতে আগুন ধরে যায়। বাসটিতে মোট ৩৯ জন যাত্রী ছিলেন।
কোলাভা থানা এলাকার দ্বারাপুরা গ্রামের কাছে দিল্লী-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে, বাসটির অধিকাংশ যাত্রীই মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন। দুর্ঘটনার পর আগুনে বেশ কয়েকজন যাত্রী দগ্ধ হন এবং অন্যদের স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারী দল উদ্ধার করে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল বাহিনী ও চিকিৎসা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহতদের যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য গ্রিন করিডোর তৈরি করা হয়, যাতে করে অ্যাম্বুলেন্সগুলো ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি দৌসা জেলা হাসপাতালে পৌঁছাতে পারে। কিছু যাত্রীর অবস্থা খুবই গুরুতর ছিল এবং তাঁদের বড় চিকিৎসা কেন্দ্রগুলিতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাটি ভোর ৩টা থেকে সাড়ে ৩ টার মধ্যে কোলভা থানা এলাকার একটি বিশ্রামস্থলের কাছে ঘটে। ধাক্কার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বাসটি একটি খাদে পড়ে যায় এবং এর পেছনের অংশে আগুন ধরে যায়। আগুন দেখে যাত্রীরা চিৎকার করে ওঠেন।
দৌসার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন যে, ভোর সাড়ে ৩টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে, যখন ইন্দোরগামী একটি স্লিপার বাসের সঙ্গে মুম্বাইগামী একটি খালি ট্রলি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একটি গাড়ি পাশ থেকে ওভারটেক করার চেষ্টা করলে এই মারাত্মক ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, ধাক্কার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বাসটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে তাতে আগুন ধরে যায়। ভোরবেলা হওয়ায় বেশিরভাগ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন, ফলে তাদের সামলে ওঠার কোনও সুযোগ ছিল না। চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এবং মহাসড়কের অন্যান্য চালকেরা সাহায্যের জন্য ছুটে আসেন।
এই দুর্ঘটনার কারণে দিল্লী-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পাশাপাশি রাস্তা পরিষ্কার করতে যান চলাচল অন্য পথে ঘুরিয়ে দেয়। পুলিশ দুর্ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। প্রশাসন মৃতদের শনাক্ত করতে এবং তাঁদের পরিবারকে খবর দিতে কাজ করছে।
এছাড়াও, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যোগেন্দ্র ফৌজদার, ডেপুটি পুলিশ সুপার ধর্মেন্দ্র কুমার এবং এসডিএম সঞ্জু মীনাসহ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্তা হাসপাতালে পৌঁছান। তাঁরা আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে ডাক্তারদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁদের সম্ভাব্য সর্বোত্তম চিকিৎসা প্রদানের কথা বলেন।

No comments:
Post a Comment