ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১৩ জুলাই ২০২৬: ব্যাংককের একটি পাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। এতে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোররাতে ঘটেছে এই ঘটনা। এই ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলোতে পাবটির প্রধান প্রবেশদ্বার থেকে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সোমবার ভোরে ব্যাংককের একটি পাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকজন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দমকল বাহিনীর কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, গভীর রাতের দিকে আগুনের খবর পাওয়া যায়।
ঘটনাস্থলে প্রথম পৌঁছানো উদ্ধারকর্মীরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগুনের ভিডিও পোস্ট করেছেন। ভিডিওটিতে দেখা যায়, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উত্তরাঞ্চলের পাবটির সামনের দরজা থেকে বিশাল অগ্নিশিখা বের হচ্ছে এবং ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে উড়ছে। কিছু লোককে পালানোর চেষ্টা করতেও দেখা যায়।
ঘটনার সময় পাবটিতে উপস্থিত একজন সংগীতশিল্পী প্রধানমন্ত্রীকে জানান যে, তিনি হঠাৎ মঞ্চের কাছে একটি সার্কিট ব্রেকার থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে পাবটির বিদ্যুৎ চলে যায় এবং একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের ফলে দ্রুত পাবটি ঘন কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়, যার ফলে লোকজন পালাতে পারছিল না। অনলাইনে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, লোকজন প্রাণ বাঁচাতে পাবটির প্রধান দরজা দিয়ে দৌড়াচ্ছেন।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জানান, ২৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগুন লাগার কারণ এখনও তদন্তাধীন। তিনি বলেন, পাবের আগুন এতটাই তীব্র ছিল যে অনেক ভুক্তভোগী পালাতে পারেননি। উদ্ধারকারীরা পাবটির পেছনের শৌচাগার থেকে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর মৃতদেহ উদ্ধার করে।
অন্যদিকে আধিকারিকরা জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীদের প্রায় আধা ঘন্টা সময় লেগেছে। পরবর্তী ছবিগুলোতে পোড়া টেবিল ও চেয়ার এবং পাবটির ক্ষতিগ্রস্ত ভেতরের অংশ দেখা যাচ্ছে।
থাইল্যান্ড এর আগেও একই ধরণের মর্মান্তিক ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে। ২০২২ সালে, দেশের পূর্বাঞ্চলে একটি মিউজিক পাবে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। এর এক দশকেরও বেশি আগে, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি, নববর্ষ উদযাপনের সময় থাইল্যান্ডের রাজধানীর একটি নাইটক্লাবে অগ্নিকাণ্ডে ৬৬ জন নিহত এবং ২০০ জনেরও বেশি আহত হন। ধারণা করা হয়, ভেতরের আতশবাজির কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল।

No comments:
Post a Comment