লাইফস্টাইল ডেস্ক, ২২ জুলাই ২০২৬: কয়েক বছর আগেও, স্ট্রোক, পারকিনসন্স, মৃগীরোগ বা স্মৃতিভ্রংশের মতো গুরুতর অসুস্থতার কারণেই নিউরোলজিস্টের কাছে যাওয়ার কথা ভাবা হতো। এই রোগীরা বেশিরভাগই বয়স্ক ছিলেন এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাস বা চলাফেরার সমস্যার মতো অভিযোগগুলো সাধারণ ছিল। কিন্তু এই চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আজকাল, ক্রমবর্ধমান সংখ্যক তরুণ-তরুণী এবং কিশোর-কিশোরীরা এমন সব উপসর্গ নিয়ে নিউরোলজিস্টদের কাছে যাচ্ছেন, যেগুলোকে দীর্ঘক্ষণ স্মার্টফোন ব্যবহারের সাথে যুক্ত করা হচ্ছে। ঘন ঘন মাথাব্যথা, মনোযোগের অভাব, ঘুমের ব্যাঘাত, মাথা ঘোরা, ঝাপসা দৃষ্টি এবং ভুলে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো দ্রুত বাড়ছে।
সিএমআরআই-এর সিকে বিড়লা হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট ডঃ দীপ দাসের মতে, মোবাইল ফোন আমাদের কাজ, পড়াশোনা এবং মানুষের সাথে যোগাযোগের পদ্ধতি বদলে দিয়েছে। তবে, এর অতিরিক্ত এবং অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মনোযোগ, ঘুম, মেজাজ এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, ক্রমাগত নোটিফিকেশন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অবিরাম স্ক্রোলিং এবং এক অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে যাওয়া-আসা মস্তিষ্ককে ক্রমাগত সক্রিয় রাখে। ধীরে ধীরে মস্তিষ্ক এই ক্রমাগত উদ্দীপনায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে কোনও একটি কাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। এই কারণেই এখন অনেক তরুণ-তরুণী বই পড়ার সময়, মিটিংয়ে যোগ দেওয়ার সময় বা পড়াশোনা করার সময়ও ঘন ঘন তাদের ফোন দেখে।
ডাক্তারদের মতে, স্মার্টফোন শুধু মনোযোগকেই প্রভাবিত করে না বরং ঘুম ও স্মৃতিশক্তির ওপরও প্রভাব ফেলে। গভীর রাতে ফোন ব্যবহার করলে চোখ নীল আলোর সংস্পর্শে আসে, যা মেলাটোনিন নামক হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এই হরমোনটি শরীরের ঘুম-জাগরণ চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। ঘুমের অভাব মনোযোগ এবং স্মৃতিশক্তির ওপর প্রভাব ফেলে। এর ফলে উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথাও হতে পারে।
এর লক্ষণগুলো কী কী?
দীর্ঘক্ষণ ধরে মোবাইল ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকলে ঘাড় এবং কাঁধের পেশিতে চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে টেনশন হেডেক এবং মাইগ্রেনের সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। এই অবস্থাকে 'টেক্সট নেক' বলা হয়। এছাড়াও, একটানা স্ক্রিন টাইম ডিজিটাল ক্লান্তির কারণ হতে পারে, যার ফলে একজন ব্যক্তি মানসিকভাবে ক্লান্ত, খিটখিটে এবং কাজে অমনোযোগী বোধ করতে পারেন। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন টাইম কাটানোর পর অনেকেই নতুন তথ্য বুঝতে এবং মনে রাখতে অসুবিধা বোধ করেন।
ডাক্তাররা বলেন যে, শিশু এবং কিশোর-কিশোরীরা এতে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে কারণ তাদের মস্তিষ্ক এখনও পুরোপুরি বিকশিত হয়নি। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম তাদের পড়াশোনা, ঘুম, শারীরিক কার্যকলাপ এবং সামাজিক আচরণের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিরোধের উপায়-
বিশেষজ্ঞরা আরও স্পষ্ট করে বলেছেন যে, সমস্যাটি স্মার্টফোন নিজে নয় বরং এর অপব্যবহার। তাঁরা ২০-২০-২০ নিয়মটি মেনে চলার পরামর্শ দেন। এর অর্থ হল, প্রতি ২০ মিনিটে প্রায় ২০ ফুট দূরের কোনও কিছুর দিকে ২০ সেকেন্ডের জন্য তাকানো। এছাড়াও, স্ক্রিন থেকে নিয়মিত বিরতি নিন, ঘুমানোর অন্তত এক ঘন্টা আগে ফোন ব্যবহার বন্ধ করুন, সঠিকভাবে বসুন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং প্রতিদিন বাইরে কিছুটা সময় কাটান।

No comments:
Post a Comment