কলকাতা: অগ্নি পরীক্ষার মুখোমুখি তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় প্রতীক, তহবিল কার দখলে যাবে- আর কয়েক ঘন্টা পরেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। সোমবার বিকেলে দিল্লীতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে নিজেদের নথি পেশ করবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তৃণমূল’ ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ‘নতুন’ তৃণমূল। দলের রাশ কাদের হাতে? প্রতীক ধরে রাখতে পারবে কারা? এমনই নানা উদ্বেগ নিয়ে নিজেদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সারছে দুই শিবির। তবে বেশি চাপে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের হাতেই তৃণমূলের ভবিষ্যৎ।
ছাব্বিশের নির্বাচনে ভরাডুবির পর ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। পরিষদীয় ও সংসদীয় দলে চরম বিদ্রোহ! সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২১ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে চলে গিয়েছেন। লোকসভায় তাঁরা আলাদা আসন চান। অন্যদিকে, পরিষদীয় দলেও ভাঙন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৫ জন বিধায়কই মমতার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তাঁরা নিজেদের মতো জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করেছেন।
দুই শিবিরই নিজেদের রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণ হাতে রাখতে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল। সেই ভিত্তিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার দু’পক্ষের কাছে নিজেদের দাবীর পক্ষে বিশেষত সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ চান। তৃণমূলের দুই শিবিরকে একই বয়ানে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সোমবার বিকেলে তার জবাব দেওয়ার শেষ সময়সীমা।
সূত্রের খবর, মমতা শিবিরের তরফে আজই দিল্লী রওনা হয়েছেন ডেরেক'ও ব্রায়েন। ঋতব্রত শিবিরও নথি নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারছে। প্রতীক নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আর আত্মবিশ্বাসী নন। জ্ঞানেশ কুমার মমতার হাত থেকে প্রতীক কেড়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। শনিবার ফেসবুক লাইভে সেই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করে মমতা বলেছিলেন, ”প্রতীক কেড়ে নিয়েও কিছু করতে পারবে না। আমি যদি প্রতীক গলায় ঝুলিয়ে রাস্তায় বের হই আটকাতে পারবেন? প্রতীক সেটাই হয়, যেটা সাধারণ মানুষের মনে থেকে যায়।” এবার প্রতীক না থাকলে মমতার তৃণমূলের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হয় সেদিকে নজর থাকবে সকলের।
অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবির প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জ্ঞানেশ কুমারের ওপরেই ছেড়েছে। তাঁরা যাবতীয় প্রমাণ সংগ্রহ করে কমিশনে পাঠাতে প্রস্তুত। এরপর প্রমাণ দেখে সিদ্ধান্ত যা নেওয়ার, কমিশন নেবে বলে তাঁদের মত। অতএব প্রতীক কার ভাগ্যে রয়েছে, তা জানতে আর কিছু সময় অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment