কলকাতা: সমস্ত জল্পনার অবসান। শেষমেষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়লেন মদন মিত্রও। আজ বুধবার মমতার তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা দেন কামারহাটির বিধায়ক। শুধু তাই নয়, মমতার হাত ছেড়ে ঋতব্রতদের নতুন তৃণমূলে যোগ দিলেন তিনি। আর এরপরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুললেন মদন। স্পষ্ট জানালেন, অভিষেকের জন্যই দলের এই অবস্থা।
এদিন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে বসে মমতার তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা দেন মদন। পাশাপাশি তিনি জানান, অভিষেকের জন্যই দলের এই পরিণতি হয়েছে। তাঁর জন্যই তৃণমূল ধ্বংস হয়েছে। নৌকাডুবি হয়েছে দলের।
মদন মিত্র এদিন বলেন, 'তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেরই রইলাম। শুধু এক ঘর থেকে আর এক ঘরে এলাম।' তাঁর বক্তব্য, "দল একজনের জন্য নয়, সবার জন্য। একজনের জন্য দলের এই অবস্থা। তাঁর নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের জন্য গোটা দল ধ্বংস হয়েছে। দলের নৌকাডুবি হয়েছে।”
ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অনুব্রত মণ্ডলের মতো বিশ্বস্তরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়েছেন। দলের ভরাডুবির পর থেকেই চেনা মুখগুলো একে একে অচেনা হয়ে পড়ছে মমতার কাছে। এমনকি একুশে জুলাই নিয়েও দড়ি টানাটানি চলছে। এরই মাঝে মমতার আরও এক দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী মদন মিত্রও কিনা মমতার পাশ থেকে সরে দাঁড়ালেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুরে স্ত্রী ও পুত্রদের ইডি তলবের পর রাতেই সন্দীপন সাহার তালতলার বাড়িতে হাজির হন মদন মিত্র। জানা যায়, প্রায় ২ ঘন্টা সন্দীপনের বাবা অর্থাৎ এন্টালির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার সঙ্গে বৈঠক করেন মমতার প্রিয় মদন। দু’জনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সাক্ষাৎ যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তা বলাবাহুল্য। এরপর থেকেই গুঞ্জন ওঠে মদনও কী এবারে মমতার হাত ছাড়ছেন!
সন্দীপনের সঙ্গে যদিও এদিন দেখা হয়নি কামারহাটির বিধায়কের, তবে ফোনে কথা হয়েছে দু'জনের।
এ বিষয়ে সন্দীপন বলেন, 'মদন দা দীর্ঘদিনের সংগঠক, বিরাট বড় মাপের নেতা। ওনার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে, জানিয়েছেন দেখা করতে চান। দেখা হলে নিশ্চয়ই কী চাইছেন সেটা বুঝতে পারব। উনি আমাদের সঙ্গে আসছেন কিনা সেটাও ভালো করে কথা বললেই জানতে পারব।”
আর সেইসব জল্পনা এদিন সত্যি করে ঋতব্রতদের শিবিরেই যোগ দিলেন মদন মিত্র। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গীর এইভাবে শিবির বদল মমতার তৃণমূলের জন্য যে বিরাট ধাক্কা, এ নিয়ে হয়তো দ্বিমত নেই। সদ্যই তাঁকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য ছিলেন তিনি। পাশাপাশি তাঁকে রাজ্যের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করেন মমতা। পাশাপাশি হকার ইউনিয়নের সভাপতি, দমদম ব্যারাকপুর জেলা সভাপতি করা হয় তাঁকে। কিন্তু সেইসব আজ অতীত!
এদিন দুপুরে ভবানীপুর এর বাড়ি থেকে মদন মিত্র নিজেই গাড়ি চালিয়ে বিধানসভায় আসেন। এরপর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের সব পদ থেকে তিনি ইস্তফা দেন। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি। মদন মিত্র বলেন, 'আমরা চেষ্টা করেছিলাম। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ক্ষমা চাইছি। এর বেশি বলব না। তবে, আমি চেয়েছিলাম একসঙ্গে যাতে আমাদের দল কাজ করতে পারে। কোনও কথা মানা হয়নি।'

No comments:
Post a Comment