ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২১ জুলাই ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ প্রশমিত হওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র টানা দশম রাত তেহরানকে নিশানা করে অসংখ্য স্থানে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ঘোষণা করে যে, তারা ইরানের বেশ কয়েকটি ঠিকানায় হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আরও দাবী, তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে ৯০০-এর বেশি বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল সহজ করে দিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, "মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক কমান্ড কেন্দ্র, সামুদ্রিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলা চালিয়েছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ক্রমাগত হামলা চালানোর ইরানের ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।"
যুক্তরাষ্ট্র আরও জানিয়েছে যে, হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। মে মাসের শুরু থেকে, সেন্টকম বাহিনী প্রায় ৯০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ৪৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের নিরাপদ চলাচল সহজ করে দিয়েছে।
জর্ডানে দুই মার্কিন সৈন্যের মৃত্যুর পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান যদি একজন মার্কিন সৈন্যেরও ক্ষতি করে, তবে তাকে বহুগুণে পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। ট্রাম্প বলেন, "যদি ইরান একজন মার্কিন সৈন্যকে মারে, তবে তাকে বহুগুণে মূল্য দিতে হবে। এই নির্দেশনা যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল কেইন এবং প্রত্যেক ঊর্ধ্বতন সামরিক আধিকারিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন বাহিনীর ওপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবী করেছে। আইআরজিসি-র জনসংযোগ বিভাগের এক বিবৃতি অনুসারে, তাদের নৌবাহিনী "অপারেশন নাসর-২"-এর অধীনে তিন ধাপে মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

No comments:
Post a Comment