দেশের পরিচিত শিক্ষাবিদ, উদ্ভাবক ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ২৬ দিনের অনশন কর্মসূচি চলাকালীন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলে দাবি করেছেন তিনি। ওয়াংচুকের অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো ব্যক্তিগতভাবে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুরোধ করেছিলেন, তিনি যেন এসে জুস খাইয়ে অনশন ভাঙান। কিন্তু সেই অনুরোধে কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।
এক সাক্ষাৎকারে সোনম ওয়াংচুক জানান, অনশনের সময় তাঁর শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে অবনতির দিকে যাচ্ছিল। সেই পরিস্থিতিতে পরিবার চেয়েছিল, দেশের অন্যতম প্রধান বিরোধী নেতা হিসেবে রাহুল গান্ধী উপস্থিত থেকে একটি ইতিবাচক বার্তা দিন। তাঁর মতে, বিষয়টি রাজনৈতিক সমর্থনের চেয়ে মানবিকতার প্রশ্ন ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ সফল হয়নি।
ওয়াংচুক বলেন, তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো রাহুল গান্ধীর দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং অনশন ভাঙানোর বিষয়ে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই অনুরোধের কোনও ইতিবাচক উত্তর আসেনি বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর কথায়, তিনি মনে করেছিলেন দেশের গণতান্ত্রিক পরিসরে বিরোধী নেতারা জনস্বার্থের বিষয়ে একসঙ্গে এগিয়ে আসবেন। বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
শুধু রাহুল গান্ধী নন, বিরোধী শিবিরের আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের ভূমিকাতেও হতাশা প্রকাশ করেন ওয়াংচুক। তাঁর দাবি, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অনেক রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে সমর্থনের কথা বললেও বাস্তবে পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে অনীহা দেখিয়েছে। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে হতাশ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, শিক্ষা ব্যবস্থা, পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, যুব সমাজের ভবিষ্যৎ এবং বিভিন্ন জনস্বার্থমূলক দাবিকে সামনে রেখে সোনম ওয়াংচুক টানা ২৬ দিন অনশন করেছিলেন। তাঁর এই কর্মসূচি দেশজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষের একাংশ তাঁর দাবির প্রতি সমর্থন জানায়। পরে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা এবং কিছু বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।
ওয়াংচুকের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই দাবি বিরোধী রাজনীতির ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিতে পারে। আবার অন্যদের মতে, এটি সোনম ওয়াংচুকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বক্তব্য, যার জবাব সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকেই আসা উচিত।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সোনম ওয়াংচুকের এই দাবির বিষয়ে এখনও পর্যন্ত রাহুল গান্ধী বা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও অভিযোগের বিষয়ে কংগ্রেসের অবস্থান এখনও স্পষ্ট হয়নি।

No comments:
Post a Comment