রাজ্যে নতুন সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে ‘অমিত মেটালিকস’-এর পরিবেশবান্ধব গ্রিনফিল্ড শিল্প প্রকল্পের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং আনুমানিক ৫,০০০ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুরুলিয়ার মতো শিল্পে পিছিয়ে থাকা এলাকায় বড় বিনিয়োগ হলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আশীর্বাদ এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শকে সামনে রেখে রাজ্যে দ্রুত শিল্পায়নের লক্ষ্যে এগোনোর কথাও জানান তিনি।
৮০০ দিনের মধ্যে কারখানা চালুর লক্ষ্য
প্রকল্পের উদ্যোক্তা অমিত সিং, তাঁর পরিবার, পরিচালন পর্ষদ এবং অর্থায়নকারী ইউকো ব্যাংককে ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ইউকো ব্যাংক প্রকল্পটির জন্য ১,৫০০ কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে।
সংস্থার পক্ষ থেকে রঘুনাথপুরে বৃক্ষরোপণ, স্কিল ট্রেনিং সেন্টার, অটোমোবাইল-সংক্রান্ত উদ্যোগ এবং বিভিন্ন CSR কর্মসূচির পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। রঘুনাথপুরকে বোকারো বা ভিলাইয়ের মতো বড় শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী নির্ধারিত ১,০০০ দিনের পরিবর্তে ৮০০ দিনের মধ্যেই কারখানা চালুর আহ্বান জানান।
জমি নীতি ও সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থায় জোর
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, জোর করে জমি অধিগ্রহণ এবং শিল্পপতিদের নিজেদের উদ্যোগে জমি কেনার বাধ্যবাধকতা—দুই পদ্ধতি থেকেই সরকার সরে এসেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জমি কেনা, ল্যান্ড পুলিং এবং কৃষকদের সঙ্গে যৌথভাবে জমি উন্নয়নের মতো নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানার মডেল অনুসরণ করে রাজ্যের জমি সংক্রান্ত নীতি আরও বিনিয়োগবান্ধব করার কথা বলেন তিনি।
১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের যাতে বারবার পুরসভা, পঞ্চায়েত বা জেলা পরিষদে যেতে না হয়, সেজন্য রাজ্যস্তরে সিঙ্গল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।
বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থানেও গুরুত্ব
শিল্প সংস্থাগুলিকে শুধু কত টাকা বিনিয়োগ করছে তার ভিত্তিতে নয়, কত মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করছে—সেটিকেও ইনসেনটিভ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায়ের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিগোষ্ঠীর (GoM) সুপারিশের পর জমি নীতি-সহ প্রয়োজনীয় নীতিগত পরিবর্তন দ্রুত কার্যকর করার কথাও বলা হয়েছে।
প্রথম ১০০ দিনে একাধিক প্রকল্পের দাবি
সরকারের প্রথম ১০০ দিনের সাফল্যের তালিকায় লাক্স কোজির ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু, একটি স্টিল কারখানার সম্প্রসারণ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে আমূলের ৭০০ কোটি টাকার প্ল্যান্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, বিরোধী দলনেতা থাকার সময় অমিত মেটালিকসের আবেদনের ভিত্তিতে DVC-র চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করে রঘুনাথপুরে প্রয়োজনীয় রেলের রেকের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
স্থানীয়দের চাকরিতে অগ্রাধিকার
প্রকল্পে স্থানীয় বাসিন্দাদের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক মামনী বাউরীর প্রস্তাব সমর্থন করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অদক্ষ ও সাধারণ ধরনের পদগুলিতে স্থানীয় ছেলে-মেয়েদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
পাশাপাশি দুর্গাপুরের লাভজনক ইউনিটের মতো রঘুনাথপুরের প্রকল্প থেকেও নিয়ম অনুযায়ী ২ শতাংশ CSR অর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে।
রঘুনাথপুরের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পুরুলিয়ায় শিল্প, কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে—এমনটাই আশা প্রকাশ করা হয়েছে অনুষ্ঠানে।

No comments:
Post a Comment