সংসদের চলতি অধিবেশনের মধ্যেই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এক প্রাতঃরাশ বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ছেড়ে আসা এবং মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা থেকে পৃথক হওয়া একাধিক সাংসদের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে তিনি সাংসদদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেন, “কোনও চিন্তার প্রয়োজন নেই, আমি আপনাদের সঙ্গে আছি।”
সূত্রের খবর, সংসদ ভবন চত্বরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সাংসদদের আশ্বস্ত করে বলেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) একটি পরিবার। জোটের প্রতিটি সাংসদকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং তাঁদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাজে কেন্দ্রের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে জোর দেন সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর। তিনি বলেন, শুধুমাত্র উপস্থিত থাকাই যথেষ্ট নয়, বিভিন্ন বিল ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তথ্যভিত্তিক বক্তব্য রাখা উচিত। এ জন্য সংসদের গ্রন্থাগার ও সংসদীয় ইতিহাসের নথিপত্র ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, সংসদে কার্যকর বক্তৃতা দিতে হলে বিষয় সম্পর্কে গভীর প্রস্তুতি জরুরি।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী সাংসদদের নিজ নিজ লোকসভা কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির ওপর নিয়মিত নজর রাখার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, রাজ্যের উন্নয়নই দেশের উন্নয়নের ভিত্তি। কোনও কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনিক বা অন্য কোনও সমস্যা দেখা দিলে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (PMO)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করারও আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক সাংসদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেন এবং তাঁদের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ, মানুষের সমস্যা ও চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। মহারাষ্ট্রের ধারাশিবের সাংসদ ওমরাজে নিম্বলকরের সঙ্গে তাঁর যোগব্যায়াম নিয়েও আলাপ হয়। পাশাপাশি শিবসেনার শিন্ডে গোষ্ঠী এবং এনসিপির অজিত পাওয়ার শিবিরের একাধিক সাংসদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মারাঠি ভাষায় কথোপকথন করেন।
সূত্রের মতে, সম্প্রতি শিবসেনায় যোগ দেওয়া ছয়জন সাংসদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আলাদাভাবেও বৈঠক করেন। সেখানে সাংগঠনিক সমন্বয়, সংসদে ভূমিকা এবং জনসংযোগ আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সংসদের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন চলাকালীন এই প্রাতঃরাশ বৈঠক শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং এনডিএ-র শরিক ও নতুনভাবে জোটে আসা সাংসদদের মধ্যে আস্থা বাড়ানো এবং তাঁদের আরও সক্রিয়ভাবে জোটের কার্যক্রমে যুক্ত করার কৌশলের অংশ। একই সঙ্গে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন দ্রুততর করা এবং সংসদে সরকারের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার বার্তাও এই বৈঠকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment