হেলথ পয়েন্ট ব্লাড ব্যাঙ্কের লাইসেন্স বাতিলের পর এবার কলকাতার আরও ছয়টি ব্লাড ব্যাঙ্ককে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ভিনরাজ্যে অনুমোদন ছাড়া রক্ত ও প্লাজমা পাঠানোর অভিযোগ-সহ একাধিক অনিয়মের তদন্তে নেমেছে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল। ইতিমধ্যেই রাজ্য ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল এই ছয়টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে বলে স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে।
অভিযুক্ত ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে রয়েছে যোধপুর পার্কের অশোক ব্লাড ব্যাঙ্ক, সোনারপুরের ইস্পাত কো-অপারেটিভ হাসপাতাল ব্লাড সেন্টার, বেলেঘাটার ওম ব্লাড সেন্টার, আলিপুরের কোঠারি মেডিক্যাল ব্লাড সেন্টার, হাজরার পিপলস ব্লাড ব্যাঙ্ক এবং এন্টালির লাইফ কেয়ার।
প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, রক্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি বিধি যথাযথভাবে মানা হয়নি। পাশাপাশি নিয়মবহির্ভূতভাবে রক্ত ও প্লাজমা অন্য রাজ্যে পাঠানো এবং প্রশাসনিক গাফিলতিরও ইঙ্গিত মিলেছে বলে সূত্রের দাবি। এই অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করতেই বিস্তারিত তদন্ত শুরু করছে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল।
এর আগে একই ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে হেলথ পয়েন্ট ব্লাড ব্যাঙ্কের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর এবার অভিযুক্ত এই ছয়টি ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে অননুমোদিত রক্তদান শিবির পরিচালনা এবং মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে লোহিত রক্তকণিকা ও প্লাজমা ভিনরাজ্যে পাঠানোর অভিযোগ সামনে আসার পর স্বাস্থ্য দফতর আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইতিমধ্যেই মোট ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে বাইরে রক্তদান শিবির আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
তবে এই নিষেধাজ্ঞার অর্থ ব্লাড ব্যাঙ্কের সমস্ত কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি নিজেদের পরিকাঠামোর মধ্যেই প্রশিক্ষিত কর্মীদের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রক্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা চালিয়ে যেতে পারবে।
রক্তের অবৈধ লেনদেন ও সম্ভাব্য কালোবাজারি রুখতে স্বাস্থ্য ভবন নতুন নির্দেশিকাও জারি করেছে। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্য বা কেন্দ্রের পূর্বানুমতি ছাড়া বিপুল পরিমাণ রক্ত বা প্লাজমা অন্যত্র পাঠানো বা স্থানান্তর করা যাবে না। সরকারি ও বেসরকারি— উভয় ধরনের ব্লাড ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম সমানভাবে প্রযোজ্য।
স্বাস্থ্য দফতর স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্ধারিত অনুমোদন ছাড়া রক্ত বা প্লাজমা স্থানান্তরের ঘটনা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments:
Post a Comment