বর্ধমানে ধৃত হামিমকে ঘিরে বড় চাঞ্চল্য! তদন্তে উঠে এল নাশকতার বিস্ফোরক ছক - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, August 3, 2026

বর্ধমানে ধৃত হামিমকে ঘিরে বড় চাঞ্চল্য! তদন্তে উঠে এল নাশকতার বিস্ফোরক ছক

 


পূর্ব বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে গ্রেফতার হওয়া হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর দাবি, হামিম কোনও বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি নন; তিনি একটি বৃহত্তর আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ-চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। এই সন্দেহের ভিত্তিতেই তাঁর ডিজিটাল ডিভাইস, আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগের নথি এবং সহযোগীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তকারীদের দাবি, হামিম দীর্ঘদিন ধরে নিজের পরিচয় গোপন রেখে বর্ধমানের একটি আবাসনে ভাড়া থাকছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অধিকাংশই তাঁকে সাধারণ যুবক হিসেবেই চিনতেন। তবে এসটিএফের নজরদারির পর তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগ সামনে আসে।

তদন্তের কেন্দ্রে পাকিস্তান-যোগ

এসটিএফের প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে, হামিমের যোগাযোগ ছিল পাকিস্তান-ভিত্তিক কিছু হ্যান্ডলার এবং জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে। তদন্তে বিশেষভাবে শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের নাম উঠে এসেছে। গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন, বিদেশ থেকে নির্দেশ, অর্থ বা অন্যান্য সহায়তা এই চক্রের কাছে পৌঁছেছিল কি না।

গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপর নজরদারির অভিযোগ

তদন্তে উদ্ধার হওয়া নথি ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে এসটিএফের দাবি, হামিমের কাছে পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের চলাফেরা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু তথ্য ছিল। পাশাপাশি দিল্লির কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি তদন্তকারী সংস্থা।

যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ ঘিরেও তদন্ত

এসটিএফ জানিয়েছে, সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অশান্তি তৈরির সম্ভাব্য পরিকল্পনার বিষয়েও তথ্য মিলেছে। তদন্তকারীদের দাবি, পুলিশের পোশাক সংগ্রহের দায়িত্ব হামিমকে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিক জেরায় উঠে এসেছে। সেই পোশাক কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল, তা এখনও তদন্তাধীন।

গ্রেফতার অর্পিতা সরকার, খতিয়ে দেখা হচ্ছে তাঁর ভূমিকাও

হামিম গ্রেফতারের পর ঝাড়খণ্ডের সাহিবগঞ্জ থেকে অর্পিতা সরকারকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। তদন্তকারীদের দাবি, হামিমের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। জেরায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর মোবাইল ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং ডিজিটাল যোগাযোগের নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহারের অভিযোগ

তদন্তে উঠে এসেছে, সাধারণ মোবাইল কল বা প্রচলিত মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের বদলে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করা হতো। 'Session' এবং 'Element X' নামের অ্যাপের মাধ্যমে বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না, তা ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করছেন। এছাড়া উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ডিকোড করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

আরও সহযোগীর খোঁজে অভিযান

এই মামলায় ইতিমধ্যেই হামিমের একাধিক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের মতে, স্থানীয় স্তরে তথ্য সংগ্রহ, আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তার জন্য একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল। সেই নেটওয়ার্কের আরও সদস্যদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

তদন্ত এখনও চলছে

তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল মামলা। উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্য, নথিপত্র ও অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে গোটা নেটওয়ার্কের বিস্তার, সম্ভাব্য অর্থের উৎস এবং আরও কারা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত একাধিক বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad