নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর: স্বাধীনতার প্রায় আট দশক অতিক্রান্ত। দেশ জুড়েই যখন উন্নয়নের জোয়ার, তখন আজও ন্যূনতম নাগরিক পরিষেবা থেকে চরম বঞ্চিত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনি ব্লকের অন্তর্গত মহাশোল কলোনির অধিবাসীরা। ১৯৫৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত বাস্তুহারা মানুষদের আশ্রয়ে এই জনপদের সূচনা হয়েছিল, যা পরবর্তীকালে ১৯৭১ সালে স্থায়ী কলোনি হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে। বর্তমানে প্রায় ২০০টি পরিবারের আনুমানিক ১০৫০ জন মানুষের বসবাস এই এলাকায়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, দীর্ঘ পথচলার পরও মেটেনি তাঁদের নিত্যদিনের মৌলিক চাহিদা।
এলাকাবাসীদের চরম অভিযোগ, প্রতিবার ভোটের আগে রাজনৈতিক দল ও নেতাদের প্রতিশ্রুতির বন্যা ভেসে এলেও ভোটের ফল প্রকাশের পর আর কারও দেখা মেলে না। কলোনির কাঁচা মাটির রাস্তাগুলির অবস্থা এতটাই বেহাল যে সেগুলিকে ‘রাস্তা’ বলতেও রাজি নন ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। একটু বৃষ্টি হলেই জল-কাদায় একাকার হয়ে রাস্তাগুলি রীতিমতো পুকুরের রূপ নেয়। সেই জল জমা রাস্তা পেরিয়েই প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয় স্কুলপড়ুয়া থেকে শুরু করে এলাকার অসুস্থ প্রবীণ ও সাধারণ গ্রামবাসীদের। এমনকি মেয়েরা বাপের বাড়ি পর্যন্ত আসতে চায় না, বলেও দাবী স্থানীয়দের।
দুর্ভোগের শেষ এখানেই নয়; কলোনিতে নেই কোনও সঠিক নিকাশি ব্যবস্থা। ড্রেনের নোংরা জল উপচে পথঘাট ছাপিয়ে ঢুকে পড়ে বাড়ির উঠোনে। এছাড়া পানীয় জলের সুবন্দোবস্ত না থাকায় দূরদূরান্ত থেকে জল বইতে হয় বাসিন্দাদের। বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও পথঘাটে কোনও আলোকস্তম্ভ বা স্ট্রিট লাইট নেই। ফলে সন্ধ্যা নামলেই গোটা এলাকা নিচ্ছিদ্র অন্ধকারে ডুবে যায়, যা বাড়ায় দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য ও বিষাক্ত সাপের উপদ্রব।
প্রশাসনের চরম উদাসীনতা ও পঞ্চায়েতের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভে ফুঁসছেন মহাশোল কলোনির বাসিন্দারা। অবিলম্বে পাকা রাস্তা, নিকাশি নালা, পানীয় জল ও পথবাতির ব্যবস্থা করা না হলে আগামী দিনে রাজ্য সড়ক অবরোধসহ আরও বড়সড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

No comments:
Post a Comment