মমতার গাড়িতে কাদা, কী বললেন শুভেন্দু? - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, August 10, 2026

মমতার গাড়িতে কাদা, কী বললেন শুভেন্দু?


কলকাতা: হালিশহরে গিয়ে রবিবার চরম বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃত তৃণমূল কর্মীর যাওয়ার পথেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হল কাদা ও জুতো। মমতাকে লক্ষ্য করে ওঠে 'চোর' ও ডাকাতরানি স্লোগানও। আর পানিহাটিতে এসে সেই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থাপনা করেছিল। কিন্তু জনরোষের শিকার হয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি টিভির ছবিতে যতটুকু দেখেছি, সিনিয়র পুলিশ ডিসি-র নেতৃত্বে পুলিশ টিম তাঁকে সঠিকভাবে সাপোর্ট দিয়েছে। আমি বিজেপির কোনও পরিচিত মুখও দেখিনি, ঝান্ডাও দেখিনি।”


মুখ্যমন্ত্রীর দাবী, বাড়ির লোক বলছেন তাঁরা ডাকেননি, তাঁরা চাননি মমতা যুক্ত হন। তাঁর কথায়, “উনি জোর করে বলতে চাইছেন, লক আপে মেরে দিয়েছে, বিজেপি মেরে দিয়েছে। আর বাড়ির লোক বলছে, পুলিশের ভূমিকায় সন্তুষ্ট। রহস্য উদঘাটন হোক, সেটাই চায় পরিবার। কিন্তু সেক্ষেত্রে পরিবার বলছে, পুলিশ-প্রশাসনই বিচার দিতে পারবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিচার দিতে পারবে না।” 


প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “ছুটির দিন একজন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করতে গিয়েছেন, পুলিশকে না জানিয়ে। পুলিশ এতো বড় ব্যবস্থা করেছে দেখলাম, যেটা ওনার পাওয়ার কথা নয়। উনি এখন সেই ক্যাটাগরিতে পড়েন কিনা সন্দেহ রয়েছে। আমাদের নির্দেশ রয়েছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, বয়সও হয়েছে, যতটা সম্ভব পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া ও সম্মান রাখা।” তাঁর পরামর্শ, “আপনার কাছ থেকে যদি কেউ সাহায্য চায়, নিশ্চয়ই করুন। কিন্তু আপনি অহেতুক কোনও জায়গায় গিয়ে এমন কিছু করবেন না, যাতে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়।”


সেইসঙ্গে শুভেন্দুর বক্তব্য, তিলোত্তমার বাড়ি যেতে পারতেন মমতা। হাত জোড় করে ক্ষমা চাওয়ারও পরামর্শ দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "একটা স্টেট হাসপাতালের ভিতরে মেরেছিলেন তিলোত্তমাকে, প্রমাণ লোপাট করতে গিয়েছিলেন, ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনতে গিয়েছিলেন সেদিন, আপনার গাড়িতে কাদা মাখাবে না কি ফুল ছুড়বে?”


উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিরজু কুমারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত। এলাকায় তোলাবাজি-মারামারির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলেই জানান তদন্তকারীরা। পরিবারের দাবী, গ্রেফতারের পর তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়। সন্ধ্যায় তাঁর স্ত্রী জেলে দেখাও করতে গিয়েছিলেন। সেই সময় বিরজু সুস্থই ছিলেন বলে জানান তাঁর স্ত্রী। হালিশহর থানার পুলিশের দাবী, শুক্রবার ভোররাতে ওই যুবককে অসুস্থ অবস্থায় লকআপে পড়ে থাকতে দেখা যায়। কল্যাণী জহরলাল নেহেরু হাসপাতাল নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। যুবকের শরীরের একাধিক জায়গায় হাত-পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও অভিযোগ। পরিবারের আরও অভিযোগ, সকালে হালিশহর থানার পুলিশ কল্যাণী হাসপাতালে বিরজুর দেহ রেখে চলে যায়।


এই ঘটনায় শনিবার থেকেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। আর এদিন রবিবার দুপুরে আচমকাই মৃত ওই তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তাঁর গাড়ি ঘিরে তুমুল বিক্ষোভে রীতিমতো তুলকালাম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে কাদা লেপে দেওয়া হয়। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-জুতো ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ। 


বিক্ষোভের এই ঘটনার প্রবল সমালোচনা করেন মমতা। তিনি বলেন, "আমরা তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি। বিজেপি ইট মেরেছে। গাড়ির কী অবস্থা করেছে দেখুন। বাংলা গুন্ডাদের হাতে চলে গিয়েছে।” তিনি বলেন, 'পুলিশের সামনে আমার গাড়িতে হামলা হয়েছে। মৃতের স্ত্রীকে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ লকাপের থার্ড ডিগ্রি দিয়েছে।'


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, 'বিজেপি লুম্পেন বাহিনী নিয়ে এসে আমাদের গাড়ি ঘিরে অশ্রাব্য গালিগালাজ করেছে। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। পুলিশের সামনে আমাদের গাড়িতে বড় বড় ইট ছোড়া হয়েছে। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে পুলিশ এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad