'আজকের নতুন মুসলিম লীগ--', বন্দে মাতরম নিয়ে কংগ্রেসের প্রস্তাবে খোঁচা বিজেপির - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, August 20, 2026

'আজকের নতুন মুসলিম লীগ--', বন্দে মাতরম নিয়ে কংগ্রেসের প্রস্তাবে খোঁচা বিজেপির


ন্যাশনাল ডেস্ক, ২০ আগস্ট ২০২৬: বন্দে মাতরম নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি (সিডব্লিউসি) গানটির মাত্র দুটি স্তবক গাওয়ার একটি প্রস্তাব পাস করেছে। কংগ্রেস দলের দাবী, বন্দে মাতরম তাদের জন্য একটি আবেগঘন বিষয়, অপরদিকে বিজেপির জন্য এটি একটি রাজনৈতিক বিষয়। বিজেপি আবার কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে। দলের সভাপতি নীতিন নবীন বলেছেন যে, কংগ্রেস আজকের নতুন মুসলিম লীগে পরিণত হয়েছে। 


বন্দে মাতরম গানে ছয়টি স্তবক রয়েছে, কিন্তু কংগ্রেস দল বলছে যে তারা ১৯৩৭ সালের কংগ্রেস সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তেই অটল থাকবে। তারা সাম্প্রতিক আইনটির তীব্র বিরোধিতা করেছে।


কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বলেছেন, "১৯৩৭ সালের ২৮শে অক্টোবর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শে মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহেরু, সর্দার প্যাটেল, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং মাওলানা আজাদের উপস্থিতিতে সিডব্লিউসি সভায় 'বন্দে মাতরম'-এর ওপর একটি প্রস্তাব পাস হয়েছিল। আজকের সিডব্লিউসি সভায় সেই প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে... কংগ্রেস সভাপতিও পুরনো প্রস্তাবটির একটি অংশ পাঠ করে শুনিয়েছেন।"


তিনি বলেন, "এই বিষয়ে কোনও বিতর্ক নেই। এটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ইস্যু বানানো হচ্ছে, অথচ আজকের আসল ইস্যুগুলো হল যুবসমাজ, পরীক্ষা, 'তহবিল আত্মসাৎ' এবং পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতা।


জয়রাম রমেশ বলেন যে, "প্রথম দিন থেকেই আমাদের অবস্থান স্পষ্ট; ১৯৩৭ সালের ২৮শে অক্টোবর, আমাদের প্রথম সভাপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ বলেছিলেন যে, জাতীয় সঙ্গীত হবে 'জন গণ মন' এবং 'বন্দে মাতরম' হবে আমাদের জাতীয় গীত।"


এদিকে, কংগ্রেসের গৃহীত প্রস্তাবের নিন্দা করেছে বিজেপি। পদ্ম শিবির এটিকে সংবিধানের অপমান বলে আখ্যা দিয়েছে। নীতিন নবীন বলেছেন, "কংগ্রেস এখন তার অপমানকে একটি প্রস্তাবের রূপ দিয়েছে। এর কার্যনির্বাহী কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে কংগ্রেসের মঞ্চে 'বন্দে মাতরম'-এর কেবল প্রথম দুটি স্তবক গাওয়া হবে। কিছুদিন আগে যখন এক ব্যক্তির আচরণে এই একই অপমান প্রকাশ পেয়েছিল, তখন কংগ্রেস এটিকে কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। আজ, সেই একই অপমান কংগ্রেসের নীতিতে পরিণত হয়েছে।"


তিনি বলেন, "ভারত মাতার এই পবিত্র বন্দনার অপমান করা মানে সেই হাজার হাজার শহীদকে অপমান করা, যাঁরা এই গান মনে রেখে দেশের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক আত্মরক্ষা নয় বরং ভোটব্যাংকের প্রতি সেই ক্ষুধার প্রমাণ, যার কাছে কংগ্রেস বারবার দেশের আত্মসম্মানকে বন্ধক রেখেছে। কংগ্রেস আজকের নতুন মুসলিম লীগে পরিণত হয়েছে।"


এছাড়াও, বিজেপি নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী বলেছেন, "কংগ্রেস প্রমাণ করেছে যে তারা নিজেদের দেশ এবং সংবিধানের ঊর্ধ্বে মনে করে। দলটি তার দলের প্রস্তাবকে সাংবিধানিক আইনের ঊর্ধ্বে বলে মনে করে। এর মাধ্যমে কংগ্রেস এই জল্পনার অবসান ঘটিয়েছে যে, তারা নতুন মুসলিম লীগে পরিণত হয়েছে। ১৯৩৭ সালে মুসলিম লীগের ‘বন্দে মাতরম’-এর ওপর যে জোর ছিল, সংসদে আইন পাস হওয়ার পর আজ কংগ্রেসেরও ‘বন্দে মাতরম’-এর ওপর ঠিক একই জোর রয়েছে।"


উল্লেখ্য, সম্পূর্ণ বন্দে মাতরম গাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। এরই মধ্যে, সংসদ সম্প্রতি 'জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন' অনুমোদন করেছে, যা অনুযায়ী বন্দে মাতরমের ছয়টি শ্লোকই গাওয়া বাধ্যতামূলক। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এই আইনটি প্রণীত হয়েছে। এই আইন অনুসারে, জাতীয় 

সঙ্গীতের অবমাননা করলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। জাতীয় গীতের অবমাননার জন্য শাস্তির বিধানও রয়েছে।


বর্ষাকালীন অধিবেশনের শেষে এবং স্বাধীনতা দিবসে প্রথমবার লালকেল্লা থেকে সম্পূর্ণ বন্দে মাতরম গাওয়া হয়েছিল। স্বাধীনতা দিবসেই কংগ্রেস সদর দফতরে এটি বিতর্কের জন্ম দেয়। বিজেপির দাবী, সম্পূর্ণ বন্দে মাতরম গাওয়ার বিষয়ে সোনিয়া গান্ধী আপত্তি জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে বেশ কয়েকটি রাজ্যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।


এর পরেই গোয়া কংগ্রেস সভায় অসম্পূর্ণ বন্দে মাতরম গাওয়া হয়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বিজেপি এটিকে অপমান বলে আখ্যা দিয়েছে। বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণ করে খাড়গে বলেন, মহাত্মা গান্ধী, প্যাটেল, নেহেরু এবং অটল বিহারী বাজপেয়ীর গাওয়া সংস্করণটিই তাঁরা গেয়েছে। খাড়গে বলেন, জাতীয় গীতের ওই সংস্করণটি গাওয়া যদি অপরাধ হয়, তাহলে এই নেতাদের বিরুদ্ধেও মামলা করা উচিৎ।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad