ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৬ আগস্ট ২০২৬: সাতসকালে কম্পন। বুধবার ভোরে হিমাচল প্রদেশে একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এদিন ভোর ৫টা ৪৬ মিনিটে অনুভূত হওয়া এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪.০। তবে, কোনও হতাহত বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) অনুসারে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলটি ছিল শিমলার প্রায় ৬৬ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। কম্পনটি প্রায় তিন সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল। এই আকস্মিক কম্পনের কারণে বহু মানুষ ঘর ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন। কম্পন কমে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মানুষজন আবার ঘরে ফিরে আসেন।
শিমলা ছাড়াও সোলান, সিরমৌর, বিলাসপুর এবং মান্ডির বেশ কয়েকটি এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। কোনও হতাহত বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। যেহেতু কেন্দ্রস্থলটি শিমলার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত, তাই ধারণা করা হচ্ছে এটি জুব্বাল-কোটখাই অঞ্চলে অবস্থিত। হিমাচল প্রদেশ ইতিমধ্যেই সবচেয়ে ভূমিকম্প-প্রবণ রাজ্যগুলির মধ্যে অন্যতম এবং এর অনেক অংশই উচ্চ-ঝুঁকি অঞ্চল ৪ এবং ৫-এর অন্তর্ভুক্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫.০-এর কম মাত্রার ভূমিকম্পে সাধারণত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা কম থাকে। তবে, স্থানীয় পরিস্থিতি এবং ভূমিকম্পের গভীরতার উপর নির্ভর করে এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। ভূমিকম্পের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়ে।
উল্লেখ্য, দুদিন আগে সোমবার সকাল প্রায় ৮:২৫ মিনিটে লেহ-লাদাখে ৩.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর ঠিক একদিন আগেও ওই এলাকায় ৪.৬ মাত্রার একটি কম্পন অনুভূত হয়েছিল। এটি এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক ভূকম্পন কার্যকলাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
ভূমিকম্প কতটা বিপজ্জনক?
২.০ বা তার কম মাত্রার ভূমিকম্পকে মাইক্রো-ভূমিকম্প বলা হয়। এই কম্পনগুলো খুব মৃদু এবং প্রায়শই অলক্ষ্যনীয় হয়। ভূমিকম্প-প্রবণ এলাকায় এগুলো প্রায়শই ঘটে থাকে। তবে, ৪.৫ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয় এবং এর ফলে জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি হতে পারে। এই তীব্রতার ভূমিকম্পকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না, কারণ এটি বাড়িঘর ও দালানকোঠার ক্ষতি করতে পারে।
৭.০ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পকে বিপজ্জনক হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। এই ভূমিকম্পগুলো ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে পারে। কয়েকদিন আগে কলম্বিয়ায় একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, এতে বহু মানুষেরমানুষজন কাঁদতে প্রাণহানি ঘটে। ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৪। ভূমিকম্পে বহু ভবন ধ্বংস হয়ে যায়, মানুষজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান চলছে এবং নিখোঁজদের সন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

No comments:
Post a Comment