তারাপীঠে অগ্নিকাণ্ডে শোকপ্রকাশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, August 17, 2026

তারাপীঠে অগ্নিকাণ্ডে শোকপ্রকাশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

 


কলকাতা: তারাপীঠের হোটেলে আগুন লেগে সাতজনের মৃত্যু। ঘটনায় শোকপ্রকাশ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সোমবার ভোরে তারাপীঠের এক বেসরকারি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা সকলেই পুণ্যার্থী। পাশাপাশি আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। তাঁদের উদ্ধার করে রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতির ওপরে নজর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। ফোনে খবরও নেন তিনি। 


এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, "তারাপীঠে আকস্মিক ও মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমি শোকস্তব্ধ। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। যাঁরা আপনজন হারিয়ে নিঃস্ব, তাঁদের এই দুঃসহ শোক সহ্য করার শক্তি ঈশ্বর প্রদান করুন।" 



তিনি আরও লেখেন, "যাঁরা আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত ও পরিপূর্ণ সুস্থতা প্রার্থনা করছি।"


স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ তারাপীঠ থানার ঢিল ছোড়া দূরত্বে পুকুরপাড়ে অবস্থিত একটি বেসরকারি হোটেলের গ্ৰাউন্ড ফ্লোরে আচমকাই আগুন লাগে। গভীর রাতে অধিকাংশ আবাসিক যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, সেই সময় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হোটেলের ভিতর থেকে ধোঁয়া ও আগুন বেরোতে দেখে স্থানীয়রা খবর দেন পুলিশ ও দমকলকে।


খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। শুরু হয় আগুন নেভানোর পাশাপাশি হোটেলের ভিতরে আটকে পড়া আবাসিকদের উদ্ধারের কাজ। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন দমকলকর্মীরা। এরপর হোটেলের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়ে দগ্ধ অবস্থায় সাত জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুন লেগেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হোটেল মালিককে গ্ৰেফতার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 


হোটেলের মালিক কল্যাণ পালের বক্তব্য, তাঁদের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল না। পিছনের দিকে বেরোনোর দরজাও ছিল। কিন্তু আগুন লেগে যাওয়ায় তৎক্ষণাৎ হোটেলকর্মীরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন। ফলে অন্ধকারে অনেকে পিছনের দরজা খুঁজেই পাননি। দমকল আধিকারিকেরাও জানিয়েছেন হোটেলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল। নিয়ম মেনে দু'টি সিঁড়ির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। কিন্তু সিঁড়ির জানলা বন্ধ থাকায় ধোঁয়া বাইরে বেরোতে পারেনি। তাই অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad