হরমুজ নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবী ট্রাম্পের, কী বললেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি? - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, August 15, 2026

হরমুজ নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবী ট্রাম্পের, কী বললেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি?

 


ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১৫ আগস্ট ২০২৬: ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর দাবী করেছেন। ট্রাম্প শুক্রবার বলেছেন, ইরানকে পরাজিত করার পর যুক্তরাষ্ট্র শীঘ্রই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবে।


শুক্রবার নিউইয়র্কে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, "ইরানকে পরাজিত করার পর... আমি হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।" এই বিবৃতিটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে।


মাত্র কয়েকদিন আগে ট্রাম্প দাবী করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তিনি মার্কিন নৌ অবরোধকে ইস্পাতের দেওয়াল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হরমুজ প্রণালী বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এর মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।


ইরান ট্রাম্পের দাবী ও হুমকি দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন যে, কৌশলগত এই জলপথটি তেহরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, হরমুজ প্রণালী কখন খোলা বা বন্ধ করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত ইরানই নেবে।


গরিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালী ইরানের ছিল, ইরানেরই আছে এবং ইরানেরই থাকবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের কথিত "কৌশলগত পরাজয়ের" বাস্তবতা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন যে, ওয়াশিংটন তা না করা পর্যন্ত ইরান এই অবরোধ অব্যাহত রাখবে।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে তার নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। ট্রাম্প বলেছেন যে, এই অবরোধের অর্থ হল "আমরা না চাইলে কোনও জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।" ট্রাম্প বারবার দাবী করেছেন যে, এই সংঘাতের কারণে ইরানের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে, তিনি এও স্বীকার করেছেন যে, ইরানের এখনও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন সক্ষমতা রয়েছে। ট্রাম্প দাবী করেছেন, ইরানের কাছে এখন আগের চেয়ে অনেক কম ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন রয়েছে।


স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে, বিশ্বের তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। ইরান এই জলপথে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ অব্যাহত রেখেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তার অবরোধ বজায় রেখেছে এবং তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad