লাইফস্টাইল ডেস্ক, ১৩ আগস্ট ২০২৬: শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়া নানান সমস্যার সৃষ্টি করে। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের প্রতি অবহেলার কারণে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। হাঁটার সময় যদি আপনার গোড়ালিতে ব্যথা, আঙুলের গাঁটে ব্যথা, গোড়ালি ও হাঁটুতে ব্যথা, ফোলাভাব এবং ত্বকে লালচে ভাব দেখা দেয়, তবে এগুলো উচ্চ ইউরিক অ্যাসিডের লক্ষণ হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে, আপনি কিছু সাধারণ আয়ুর্বেদিক প্রতিকার অবলম্বন করে উচ্চ ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমাতে পারেন।
উচ্চ ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রার ক্ষেত্রে ভাতের মাড় উপকারী হতে পারে। এটি দুইভাবে কাজ করে। প্রথমত, এর রেচক গুণ শরীর থেকে পিউরিনের জমাট বের করে দিতে সাহায্য করে। এছাড়াও, ভাতের মাড় শরীরের বিপাকীয় হার বাড়ায় এবং প্রোটিন বিপাককে ত্বরান্বিত করে। এর মাধ্যমে এটি পিউরিনের সঞ্চয় কমায় এবং উচ্চ ইউরিক অ্যাসিড সম্পর্কিত সমস্যাগুলো কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও, এটি শরীরের পিউরিন ক্রিস্টাল দ্রবীভূত করতে সাহায্য করে, যা আর্থ্রাইটিস প্রতিরোধে সহায়ক।
আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞ ডঃ চঞ্চল শর্মা (আশা আয়ুর্বেদ ক্লিনিক)-এর মতে, ভাতের মাড় শুধুমাত্র ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা কমাতেই সাহায্য করে না বরং এটি সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে ও শরীরকে ভেতর থেকে বিষমুক্ত করতে সাহায্য করে। এছাড়াও, এটি পান করলে শুধু ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যাই দূর হয় না বরং এটি ত্বক ও হজম সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসাতেও সাহায্য করে। তাই, যদি আপনি উচ্চ ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ে সমস্যায় ভোগেন, তবে আপনার ভাতের মাড় পান শুরু করতে পারেন।
পিউরিন কী এবং এটি কী কাজ করে?
পিউরিন হল একটি প্রাকৃতিক রাসায়নিক যৌগ যা মানবদেহের প্রতিটি কোষে পাওয়া যায়। এটি ডিএনএ এবং আরএনএ গঠনে সাহায্য করে। এটি শুধু শরীরেই নয়, অনেক খাবার ও পানীয়তেও পাওয়া যায়।
ইউরিক অ্যাসিড কীভাবে বাড়ে?
যখন শরীর পিউরিনকে ভেঙে ফেলে, তখন তা ইউরিক অ্যাসিডে পরিণত হয়, যা কিডনি পরে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। তবে, যদি পিউরিনের মাত্রা খুব বেশি হয়ে যায় বা কিডনি তা সঠিকভাবে শরীর থেকে বের করে দিতে না পারে, তাহলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে গেঁটেবাত, গাঁটে ব্যথা এবং ফোলাভাবের মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি হলে কীভাবে চালের জল পান করবেন?
ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে ভাতের মাড় তৈরি করতে, প্রথমে ভাত রান্না করে জল ছেঁকে নিন। এবার, ভাতের মাড়ের সাথে সামান্য কালো লবণ এবং লেবুর রস মেশান। এই মাড় প্রতিদিন পান করুন।
বি.দ্র: এখানে দেওয়া তথ্য কোনও ভাবেই যোগ্য চিকিৎসা পদ্ধতির বিকল্প নয়। ফিটনেস রুটিন বা খাদ্যতালিকায় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নিন।

No comments:
Post a Comment