ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৭ আগস্ট ২০২৬: মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে বরের হাতে আক্রান্ত মহিলা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরের। আর এই মারধরের কারণ আরও চমকে দেওয়ার মতো। মহিলাটির অভিযোগ, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মধুচন্দ্রিমা গেলে তাঁর ঋতুস্রাব শুরু হয়ে যায়। আর এতেই বেজায় রেগে যান তাঁর স্বামী। এর জন্য তাঁকে চড়-থাপ্পর ও লাথি মারেন। এমনকি বর তাঁকে শ্বাসরোধ করে মারার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ।
মহিলাটির কথায়, তাঁর স্বামী রেগে গিয়ে তাঁকে বলেন, "সব জেনেও তুমি মধুচন্দ্রিমায় কেন এলে? তুমি আমার মেজাজটাই নষ্ট করে দিলে। আমি তোমার সাথে থাকতে চাই না।" এদিকে তাঁদের এই চিল-চিৎকার শুনে হোটেলের কর্মীরা দ্রুত ছুটে আসেন এবং তাঁদের ঘরের দরজায় ধাক্কা দেন। এরপর স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে যান।
পুলিশের কাছে করা অভিযোগে মহিলাটি জানান, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ঋতুস্রাবের সময় তিনি পেটে তীব্র ব্যথায় ভুগছিলেন। প্রচুর রক্তপাতের পর তিনি কাঁদতে শুরু করেন। তাঁর অবস্থা দেখে স্বামীর কষ্ট তো হয়ই না বরং ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে মারধর শুরু করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তাঁর স্বামী তাঁকে চড়, লাথি ও ঘুষি মারেন এবং শ্বাসরোধ করে প্রাণে মারার চেষ্টা করেন। তাঁর চিৎকার শুনে হোটেলের কর্মচারীরা ঘরের বাইরে ছুটে এসে দরজায় ধাক্কা দিতে শুরু করেন। তারা পৌঁছনোর পর স্বামী পিছু হটেন। এরপর তিনি তাঁর বাবাকে ফোন করে মেয়েকে এসে নিয়ে যেতে বলেন। স্বামী জানান, তিনি আর তাঁর সাথে থাকবেন না।
মহিলার কথানুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩০শে মে দিল্লীর বাসিন্দা নিখিল মিশ্রের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের আগে ৩০শে এপ্রিল গোরখপুরে একটি ভোজ-অনুষ্ঠান হয়েছিল। মহিলার অভিযোগ, সেই অনুষ্ঠানে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুক হিসেবে ব্র্যান্ডেড জিনিসপত্র দাবী করেন। বিয়েতে তাঁর বাবা প্রায় ২০ লক্ষ টাকা নগদ, একটি হুন্ডাই ভেন্যু গাড়ি এবং প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার জিনিসপত্র দিয়েছিলেন। ২রা জুন বিদায় অনুষ্ঠানের পর তিনি দিল্লীতে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন। অভিযোগ, যৌতুক দেখে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে বিদ্রূপ করেন এবং বলেন যে, তারা ব্র্যান্ডেড জিনিসও দিতে পারেনি।
মহিলাটি জানান যে, ২০২৩ সালের ৪ জুলাই, তাদের বিয়ের প্রায় এক মাস পর, তিনি তাঁর স্বামীর সঙ্গে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মধুচন্দ্রিমায় যান। আর সেখানেই ঘটে এই অনভিপ্রেত ঘটনা। এই ঘটনার পর, তিনি কোনওমতে দিল্লীতে তার শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছান এবং তাঁর শাশুড়িকে পুরো ঘটনাটি জানান। অভিযোগ, তাঁর শাশুড়ি ও ননদ তাঁর স্বামীকে সমর্থন করেন এবং তাঁকে হেনস্থা করে। এরপর, ২০২৩ সালের ১৪ জুলাই, বিয়ের মাত্র ৪৫ দিন পর, তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। তাঁর বাবা সেখানে পৌঁছালে, তাঁকেও অপমান করে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। মহিলার অভিযোগ, তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জিনিসপত্র ফেরত দেয়নি। তাঁর স্বামী হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাকে খুনের হুমকিও দিতে থাকে।
মহিলার পরিবার প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছিল। এরপর তারা থানায় অভিযোগ দায়ের করে, কিন্তু মামলা নথিভুক্ত করা হয়নি। পরিবারটি গোরখপুরের এসএসপি ডঃ কৌস্তুভের সঙ্গে দেখা করে। অবশেষে গোরখপুরের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (এসএসপি) ডঃ কৌস্তুভের হস্তক্ষেপে শনিবার, ১৫ই আগস্ট, মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। এসএসপির নির্দেশে রামগড়তাল থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। রামগড়তাল থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক শ্যামা নন্দ রায় জানান যে, মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর স্বামী নিখিল মিশ্র, শাশুড়ি সঞ্জু মিশ্র এবং ননদ নেহা পান্ডের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment