কলকাতা: উপনির্বাচনের আবহে বড়সড় সঙ্কটের মুখে পড়ল ঋতব্রত শিবির। দলবিরোধী কার্যকলাপ ও হুইপ অমান্য করার অভিযোগে ঋতব্রত শিবিরের ১০ জন বিধায়ককে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠালেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। মঙ্গলবার তাঁদের এই নোটিশ পাঠাল রাজ্য বিধানসভার সচিবালয়। কেন তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজ হবে না, তা ঋতব্রতদের কাছে জানতে চেয়েছেন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু।নোটিশে স্পষ্ট জানতে চাওয়া হয়েছে, দলীয় নির্দেশ অমান্য করে চলা এবং দলবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার কারণে কেন সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের বিধানসভার সদস্যপদ খারিজ করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে না? নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য ৭ দিন সময় দেওয়া হয়েছে ১০ বিধায়ককে।
সোমবারেই ঋতব্রত-সহ ১০ তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন ফাইল করে মমতা-তৃণমূল। সেই মামলায় বিধানসভার স্পিকারকেও পার্টি করা হয়েছে। কেন ওই ১০ বিধায়কের সদস্যপদ এখনও খারিজ করা হয়নি, তা জানতে এই স্পেশাল লিভ পিটিশন ফাইল করেন বরিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। যে ১০ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে স্পেশাল লিভ পিটিশন ফাইল করা হয়েছে, সেই তালিকায় ঋতব্রত ছাড়া অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, সাবিনা ইয়াসমিন, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান, রথীন ঘোষ, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান আনসারি এবং শিউলি সাহা রয়েছেন।
এরপরই মঙ্গলবার এই ১০ জন বিধায়ককেই নোটিশ পাঠিয়েছেন স্পিকার। সংবিধানের দশম তফসিল অর্থাৎ দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাঁদের সদস্যপদ কেন খারিজ করা হবে না, তা জানাতে বলা হয়েছে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ঋতব্রত শিবিরের বিরুদ্ধে দলীয় নির্দেশ অমান্য করা ও দলবিরোধী কার্যকলাপের লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই বিধানসভার সচিবালয় ১০ বিধায়ককে এই নোটিশ পাঠিয়েছে। নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য ৭ দিন সময় পাচ্ছেন ঋতব্রতরা। এই সময়সীমা বাড়ানোর জন্য তাঁরা আবেদন করেন কি না, সেটা দেখার। আবার নোটিশের জবাবে তাঁরা কী লিখবেন, তা নিয়েও জল্পনা বাড়ছে।
এদিকে এই নোটিশ জারির সময়কাল নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য এই শিবিরের দুই প্রার্থীর মনোনয়ন পেশ করার কথা রয়েছে। ঠিক তার মুখেই স্পিকারের এই কড়া পদক্ষেপ বিদ্রোহী শিবিরের ওপর প্রবল রাজনৈতিক চাপ তৈরি করল। পাশাপাশি, তৃণমূলের প্রতীক ও দলীয় নাম ব্যবহারের অধিকার নিয়েও দুই পক্ষের বিবাদ বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাধীন রয়েছে। কমিশন যে কোনও দিন এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত জানাতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
আবার, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ওই ১০ জন বিধায়কের সদস্যপদ বাতিলের দাবীতে মমতাপন্থী শিবির ইতিমধ্যেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা সেই আবেদনের কথা নিশ্চিত করেছেন দলের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অতএব ঋতব্রত শিবির যে রীতিমতো সাঁড়াশি চাপে পড়েছে, একথাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ। এই জল কোথায়-কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।

No comments:
Post a Comment