নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া: পিতৃপক্ষের অবসান, দেবীপক্ষের সূচনা। মহালয়া উপলক্ষে শনিবার ভোর থেকেই হাওড়ার বিভিন্ন গঙ্গার ঘাটে তর্পণ করতে ভিড় জমান অসংখ্য পুণ্যার্থী। পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে গঙ্গার জলে জল নিবেদনের মাধ্যমে তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করেন মানুষ। রামকৃষ্ণপুর ঘাট, তেলকল ঘাট, শিবপুর ও বাঁধাঘাট-সহ হাওড়ার একাধিক গঙ্গার ঘাটে সকাল থেকেই দেখা যায় পুণ্যার্থীদের আনাগোনা ছিল এদিন।
মহালয়াকে কেন্দ্র করে গঙ্গার ঘাটগুলিতে ধরা পড়ে বাঙালির দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও আবেগের ছবি। পিতৃপক্ষের অবসানের সঙ্গে দেবীপক্ষের সূচনায় চারদিকে এখন দুর্গাপুজোর আগমনী আবহ। তর্পণের রীতি পালন করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় জমান গঙ্গার ঘাটগুলিতে। এদিকে, মহালয়াকে কেন্দ্র করে ঘাটগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে হাওড়া সিটি পুলিশ। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন ঘাটে লাগানো হয় সিসি ক্যামেরা। পাশাপাশি বোট ও লঞ্চের মাধ্যমে গঙ্গায় নজরদারি চালানো হয়। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরাও স্পিডবোট নিয়ে ঘাট সংলগ্ন এলাকায় টহল দেন, যাতে তর্পণ চলাকালীন কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে।
এদিন সকালে হাওড়া সিটি পুলিশের আধিকারিকেরা বিভিন্ন গঙ্গার ঘাটে গিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখেন। পুণ্যার্থীদের ভিড় সামাল দেওয়া এবং সুষ্ঠুভাবে তর্পণ সম্পন্ন করতেই এই তৎপরতা বলে জানা গিয়েছে। মহালয়ার তর্পণকে ঘিরে একদিকে যেমন গঙ্গার ঘাটগুলিতে ছিল ধর্মীয় আচার পালনের ব্যস্ততা, অন্যদিকে তেমনই দেবীপক্ষের সূচনায় শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আবহ।
অন্যদিকে, গঙ্গাসাগরে কপিলমুনি মন্দিরের সামনে সমুদ্র সৈকতে লক্ষ লক্ষ পুন্যার্থীরা পূণ্য ডুব দিলেন গঙ্গাসাগরে। বাদ যায়নি সাগর বিধানসভার বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল। তিনি এবং লক্ষ লক্ষ পুর্ণ্যার্থীকে ভোরের আলো ভোটার আগেই পূণ্যস্নান করতে ব্যস্ত দেখা যায়। পুণ্য স্নানের পর কপিল মুনির মন্দিরে পুজো দেন পুন্যার্থীরা। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সিভিল ডিফেন্স শুরু করে কোস্টাল থানার পুলিশ কপিল মন্দির এবং সমুদ্র সৈকত নিরাপত্তা সদরের মুড়ে ফেলেছে। অপরদিকে জলপথেও চলছে বিশেষ নজরদারি।


No comments:
Post a Comment