নন্দীগ্রামে মমতার পা ভাঙেনি, প্রমাণ তুলে ধরলেন শুভেন্দু! উপনির্বাচনের পরেই অ্যাকশন - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, October 3, 2026

নন্দীগ্রামে মমতার পা ভাঙেনি, প্রমাণ তুলে ধরলেন শুভেন্দু! উপনির্বাচনের পরেই অ্যাকশন

 


কলকাতা: একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে প্রচারে ঝড় তুলেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় বিরুলিয়া বাজারে তাঁর পা ভাঙা নিয়ে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য-রাজনীতি। তবে, আদৌ সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ভেঙেছিল কিনা, তা নিয়ে বিস্তর চাপানউতোর রয়েছে বিভিন্ন মহলে। এবারে মমতার সেই চোট নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তাঁর দাবী, সেই সময় পা ভাঙেনি মমতার। শনিবার সকালে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেসের রিপোর্ট প্রমাণ হিসাবেও তুলে ধরেন তিনি। এমনকি এই ঘটনার ফের নতুন করে তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। তাই সেখানে আপাতত নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু রয়েছে। তাই মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভোট মিটলেই এর তদন্ত হবে।


শুক্রবার নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে মমতার পা ভাঙার প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু। তাঁর মতে, এই পা ভাঙা সহানুভূতি আদায়ের জন্য নিছক একটি 'রাজনৈতিক নাটক' ছাড়া কিছুই ছিল না। তিনি বলেন, "নন্দীগ্রামে হেরেই তো ঘরে ঢুকে গিয়েছিল। ভালো পায়ে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে ঘুরছিল। আমি কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করি না। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পিজি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। আমি ওখানকার সভাপতি, ওটা ভবানীপুরের মধ্যে পড়ে। এক্স-রে প্লেট তো ডাক্তারের থাকে না, রোগী পেয়ে যায়। রিপোর্টটা থাকে। আমার কাছে ওই কাগজটা রয়েছে। সেদিন আপনাদের বদনাম করেছিল। লোহার বিমে গাড়ির দরজা লেগেছিল। দরজাটা ফিরে এসে তাঁর পায়ে একটু লেগেছিল। আর পা ভেঙেছে বলে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে ঘুরছিল। তখন উনি মুখ্যমন্ত্রী। ওঁর ডাক্তাররাই লিখেছিল নো ফ্র্যাকচার। যেদিন দরকার হবে ওই কাগজটা দেখিয়ে দেব। আমি এখন পুলিশমন্ত্রীও বটে।” সেইমতো শনিবার সকালে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে 'প্রমাণ' তুলে ধরলেন শুভেন্দু অধিকারী।


এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে রিপোর্ট তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এই ভাঙার কোনও প্রমাণ নেই। আমি এটা নিয়ে বাড়তি কিছু বলছি না।‌ এটা সিআইডি তদন্ত করছে। আর নির্বাচনী বিধি উঠে গেলে এই মিথ্যা প্রচারের জন্য আমরা নতুন করে তদন্ত করব। এটা আমি ৯ তারিখের পর জানাব।"


তিনি আরও বলেন, "রাজ্য ও জাতীয় স্তরে এটা নিয়ে বড় ইস্যু করেছিলেন। পুরো নন্দীগ্রামের জনগণকে বদনাম করেছিলেন।" তাঁর বক্তব্য, কেউ মিথ্যা প্রচার করবেন আর নন্দীগ্রামের জনগণকে অপমান করবেন, মিডিয়া ট্রায়াল করবেন, বাংলার জনগণকে কেউ বিভ্রান্ত করে যাবেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা হবে।‌ 


মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "আমি শুধু একটা কথা বলতে পারি, আপনি অভিযোগ করলে যেমন তদন্ত হয়, তেমন মিথ্যা অভিযোগ করলেও আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।‌ কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেটা ৯ তারিখের পর বুঝতে পারবেন।" তিনি বলেন, "আমি এখানে বেশি কিছু বলব না।‌ কাল যা বলেছিলাম, তার সপক্ষে প্রমাণ দেখালাম। বাকি ৯ তারিখের পর অ্যাকশন হবে।‌"


উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় প্রচারে ঝড় তুলেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলায় জেলায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় নির্বাচনের প্রায় ২০ দিন আগে নন্দীগ্রামে বিরুলিয়ায় প্রচারে গিয়ে পায়ে চোট পান মমতা। তাঁর পা ভেঙে গিয়েছিল বলেই জানা যায়। তারপর প্লাস্টার করা পায়ে হুইলচেয়ারে বসেই বাকি নির্বাচনী প্রচার সেরেছিলেন। সে সময় প্রচারমঞ্চে হুইলচেয়ারে বসে ফুটবল ছুড়ে তিনি স্লোগান তুলেছিলেন, 'ভাঙা পায়েই খেলা হবে'। সেই নিয়েও এদিন খোঁচা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad