বস্তারে জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন, 'দিমাগি নকশাল'দের নিশানা প্রধানমন্ত্রী মোদীর - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, November 8, 2026

বস্তারে জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন, 'দিমাগি নকশাল'দের নিশানা প্রধানমন্ত্রী মোদীর


ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৮ নভেম্বর ২০২৬: ছত্তিশগড়ের বস্তারে মাওবাদী দমন অভিযানে মোতায়েন নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে আজ দীপাবলি উদযাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি এই উপলক্ষকে বিশেষ বলে উল্লেখ করেন। কারণ, মাওবাদী হুমকির বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য অর্জনের পর এটিই দেশের প্রথম দীপাবলি। দীর্ঘদিনের মাওবাদী সন্ত্রাসের অবসান ঘটেছে বলেও দাবী করেন তিনি।


তবে, দেশের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালানো কিছু শক্তির সাম্প্রতিক আন্দোলনের দিকে স্পষ্ট ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গলে মাওবাদীদের নিশ্চিহ্ন করা হলেও ‘দিমাগি নকশাল’ বা মতাদর্শগত নকশালদের হুমকি এখনও বাস্তব। তাঁর দাবী, এরা বহু রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে অনুপ্রবেশ করেছে।


প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “২০২৬ সালের এই দীপাবলি সত্যিই বিশেষ। নকশালবাদ ও মাওবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে চলা লড়াইয়ে দেশ জয়লাভ করার পর এটাই প্রথম দীপাবলি। এই প্রথম দেশের প্রতিটি জেলা নকশালমুক্ত। এই প্রথম কোটি কোটি দেশবাসী নকশালবাদের ভয় কাটিয়ে উঠেছেন।” তবে বিপদ এখনও পুরোপুরি কেটে যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বন্ধুরা, এই সাফল্যের মাঝেও আমাদের আরও একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। সশস্ত্র নকশালীদের নির্মূল করা হলেও ‘দিমাগি নকশালরা’ বিভিন্ন সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আজও তারা সংবিধান ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে মানুষকে উসকানি দিয়ে চলেছে। এই মতাদর্শগত নকশালরা একাধিক রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে অনুপ্রবেশ করেছে। আমাদের তাদের চিহ্নিত করতে হবে, পরাস্ত করতে হবে এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”


উল্লেখ্য, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটির ব্যবহার নিয়ে বিজেপির একাধিকবার বাকযুদ্ধ হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবং তার প্রধান সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিদেশি অলাভজনক সংস্থা ও শত্রুভাবাপন্ন বিদেশি নেটওয়ার্কের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ সংগ্রহ করে ভারতে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন।


বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জিতেন্দ্র সিং দাবী করেন, সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং কৌশলবিদ আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে বিদেশি অর্থদাতাদের যোগসূত্রের প্রমাণ রয়েছে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের হাতে। অন্যদিকে, সিজেপি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাশাপাশি, সরকারের কাছে অভিযোগের প্রমাণ পেশ করার চ্যালেঞ্জও জানিয়েছে সংগঠনটি।


গত ৪৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম গত এক বছরে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ)-এর একজনও জওয়ান কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারাননি বলে এদিন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “এটি এক অসাধারণ সাফল্য। আর এই সাফল্যের বড় কৃতিত্ব আপনাদের, আপনাদের মতো লক্ষ লক্ষ বাহাদুর জওয়ান, ছেলে-মেয়ে এবং নিরাপত্তাকর্মীদের। সেই কারণেই আজ আপনাদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করতে এসেছি। ১৪০ কোটি ভারতীয়ের পক্ষ থেকে আপনাদের আত্মত্যাগ, নিষ্ঠা এবং সেবার মনোভাবের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছি।”


ছত্তিশগড়ের বস্তার, যা দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদীদের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। জোরদার মাওবাদী দমন অভিযান, ব্যাপক আত্মসমর্পণ এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগের ফলে বদলে গিয়েছে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি।


প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই সাফল্যগুলি অনুপ্রেরণার উৎস হলেও এগুলিই চূড়ান্ত লক্ষ্য নয় বরং এগুলি “এক নতুন যাত্রার সূচনা, এমন এক উড়ান, যা দেশের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করবে। সেই স্বপ্ন, যা আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শতাব্দীর পর শতাব্দী লালন করে এসেছে।”


প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “২০১০ সালে কাছেই দান্তেওয়াড়ায় আমাদের সিআরপিএফ-এর ৬৬ জন নিরাপত্তাকর্মী কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছিলেন। ওই বছরই দান্তেওয়াড়ায় অন্য একটি ঘটনায় ৪১ জন নিরীহ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু যাঁরা নিজেদের প্রাসাদপম বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন, তাঁদের চোখে এক ফোঁটা জলও দেখা যায়নি। এই ধরণের হামলা তখন প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের পরিসংখ্যান দেখলে দেখা যাবে, প্রতি বছর মাওবাদীদের তুলনায় আমাদের অনেক বেশি সাহসী জওয়ান কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ পরিস্থিতি বদলেছে। কর্তব্য পালন করতে গিয়ে সিআরপিএফ-এর একজন জওয়ানও শহীদ হননি। এটি দেশের সঠিক নীতি, সম্মানবোধ এবং দৃঢ় সংকল্পের জয়। আমি আবারও বলছি, এটি আপনাদের বীরত্ব, সাহস এবং সংযমের প্রমাণ।”

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad