নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকের। শোকের ছায়া পরিবারে। শনিবার গ্রামে দেহ ফিরতেই কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার। কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ থানার অন্তর্গত নওদা গ্রামের এক যুবকের। শনিবার তাঁর মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার ও গ্রামবাসীরা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম অহেদুল শেখ, বয়স ৩০ বছর। তিনি প্রায় ৪৫ দিন আগে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতে কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালোরে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজে বাঁশের খাঁচা তৈরির সময় দুর্ঘটনা ঘটে; উপর থেকে নিচে পড়ে যান তিনি বলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার খবর পেয়ে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে পরিবার। দুইটি ছোট সন্তান রেখে চলে গেলেন অহেদুল। পরিবারের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে একমাত্র রোজগেরে মানুষটিকে হারিয়ে। শনিবার তাঁর দেহ গ্রামে ফিরতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে গোটা এলাকা।
মৃত শ্রমিকের আত্মীয় দিলদার শেখ জানান, “বুধবার কাজ চলাকালীন দ্বিতীয় তলা থেকে পড়ে যান অহেদুল। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ওর দুটি ছোট বাচ্চা আছে। এখন পরিবার পুরো অসহায় হয়ে পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন, এই পরিবারকে বাঁচান, পাশে থাকুন। এখন তাঁদের আর কেউ নেই।”
অহেদুলের মৃত্যুতে পরিবার যে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে, তা চোখে জল এনে দিচ্ছে প্রতিবেশীদেরও। সংসারের সমস্ত দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। এখন স্ত্রী ও শিশু সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। ঘটনার খবর পেয়ে শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান জাতীয় কংগ্রেসের মুখপাত্র হাসানুজ্জামান। তিনি মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সমবেদনা জানান এবং সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ ও সহায়তার দাবী তোলেন।
হাসানুজ্জামান বলেন, “অহেদুল শেখ কাজের জন্য প্রায় দু’হাজার কিলোমিটার দূরে ম্যাঙ্গালোরে গিয়েছিলেন। সেখানে কাজ করতে গিয়ে দ্বিতীয় তলা থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁর দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাব, এই পরিবারকে সরকারি সহায়তা ও চাকরির ব্যবস্থা করা হোক।”
তিনি আরও বলেন, “মুর্শিদাবাদে যদি বড় শিল্প স্থাপন হত, তাহলে এখানকার শ্রমিকদের এত দূরে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ যেত না। আমরা বারবার আম ও লিচুকে কেন্দ্র করে কৃষি শিল্প গড়ার দাবী জানিয়েছি। সাগরদিঘি তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো বড় জায়গা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় শ্রমিকরা কাজ পাচ্ছেন না। এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব।”
পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর এই ঘটনায় ফের একবার উঠে এল মুর্শিদাবাদে কর্মসংস্থানের অভাবের করুণ চিত্র। জীবিকার তাগিদে ভিনরাজ্যে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন একের পর এক শ্রমিক।

No comments:
Post a Comment