নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার, ১৭ মার্চ ২০২৬: সোমবার বিকেলে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। আর প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই আলিপুরদুয়ারের প্রকাশ্যে বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল। রণক্ষেত্র পরিস্থিতি আলিপুরদুয়ারে বিজেপির জেলা কার্যালয়ের সামনে। দলীয় কার্যালয়ে ব্যাপক ভাংচুর। আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিজেপির বিক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকদের।
এদিন ১৪৪ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে পদ্ম শিবির। সেখান থেকে জানা যায়, এবারে আলিপুরদুয়ারে প্রার্থী করা হয়েছে পরিতোষ দাসকে। তিনি দলের জেলা মিডিয়া সেলের কনভেনর। এরপরেই অশান্ত হয়ে ওঠে দলীয় কার্যালয়। পছন্দের প্রার্থী না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি কর্মীদের একাংশ। বিক্ষুব্ধ কর্মীদের দাবী, এই প্রার্থীকে তাঁরা চেনেন না তাই প্রার্থী বদল করতে হবে। পাশাপাশি তৃণমূলের সঙ্গে এই প্রার্থীর যোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা। এমনকি জেলা সভাপতি সময় চাইলেও কর্মীরা অনড়; দাবী না মানলে পথ অবরোধ ও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি আন্দোলনকারীদের।
দলীয় কার্যালয়ে এদিন রীতিমতো তাণ্ডব চালান বিক্ষোভকারীরা। চেয়ার-টেবিল থেকে শুরু করে একাধিক জিনিস ভাংচুর করা হয়। এমনকি দলীয় কার্যালয়ের বাইরে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বিক্ষুব্ধরা। সেইসঙ্গে স্লোগান- 'এই প্রার্থী মানছি না, মানব না।' দলের স্বার্থে প্রার্থী বদল করা হোক বলেও দাবী তোলেন তাঁরা। ঘটনা ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।
২ নং মণ্ডলের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অক্ষয় কর্মকার বলেন, 'আশা করেছিলাম আলিপুরদুয়ারে বিজেপির প্রার্থী একজন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির হবে। কিন্তু এই প্রার্থীকে সাধারণ কর্মীরা কেউ চেনেন না। তাঁর এমন কোনও দক্ষতাও নেই।' তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য, 'সাধারণ কর্মীদের পাশে থাকবে এমন কোনও যোগ্যকেই তারা প্রার্থী হিসেবে চান।' তিনি বলেন, 'এই প্রার্থীকে বদল না করলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।' এদিনের এই ভাংচুরের ঘটনা সাধারণ কর্মীদের রাগের বহিঃপ্রকাশ বলেই দাবী করেন অক্ষয় কর্মকার।
অপর এক বিক্ষোভকারী বলেন, 'জেলা সভাপতিকে আমাদের অভিযোগ জানিয়ে এলাম। তিনি কোনও সদুত্তর দেননি। বলে এসেছি, সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়ে নিন। প্রার্থী পরিতোষ দাসকে বদল করতে হবে। নাহলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হব।'
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান আলিপুরদুয়ার বিজেপি জেলা সভাপতি মিঠু দাস। দলীয় কার্যালয়ের সামনে তখন দাঁড়িয়ে অন্যান্য বিজেপি কর্মীরা। জেলা সভাপতি জানান, কেন এই ক্ষোভ, তা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেই জানা যাবে।
শাসকদলের দাবী, পরিতোষ দাসকে প্রার্থী হিসেবে অনেকেই পছন্দ করেননি। সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুব একটা সুবিধার নয় বলেও জানা যায় শাসক দলের পক্ষ থেকে। শাসক দলের দাবী, সেই কারণেই এই ঘটনা।
অন্যদিকে এই ঘটনার সঙ্গে শাসক দলের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করছে বিরোধী শিবির। বিজেপি রাজ্য কমিটির সহ-সভাপতি দীপক বর্মনের কথায়, 'ঘটনায় শাসকদলের ইন্ধন রয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে ভোটের আগে। আলিপুরদুয়ারে বিজেপি পাঁচটি আসনেই জয়ী হবে।'

No comments:
Post a Comment