কলকাতা, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭:৪৫:০১ : পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, বিহার, রাজস্থান, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের অবৈধ ভোটারদের বাংলার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে ভাগ করার পাশাপাশি বাংলাকে অপমান করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবী করেন, মহিলা ও সংখ্যালঘু ভোটারদের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলার ২৯৪টি বিধানসভা আসনের প্রতিটিতে তাঁকেই প্রার্থী হিসেবে ভাবতে হবে। তিনি জানান, তাদের দৃঢ় অবস্থানের কারণেই নাকি বাংলার ভোটার তালিকা থেকে কয়েক কোটি নাম বাদ পড়া থেকে রক্ষা পেয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, যতদিন তারা ক্ষমতায় থাকবে ততদিন বাংলায় কোনও আটক শিবির গড়ে তোলা হবে না এবং নাগরিক পঞ্জিকাও চালু হবে না। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, এই রাজ্যে ক্ষমতায় এলে ভারতীয় জনতা পার্টি মাংসাহার নিষিদ্ধ করে দিতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী দাবী করেন, যখন সারা রাজ্য জুড়ে প্রকৃত ভোটারদের নাম ব্যাপক হারে বাদ পড়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ ছড়িয়েছিল এবং প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটার যাচাই প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়ে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হারানোর মুখে ছিল, ঠিক তখনই নেপথ্যে এক গভীর চক্রান্ত চলছিল। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ৩০ হাজারেরও বেশি নতুন ভোটার তালিকাভুক্তির আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, "এর লক্ষ্য ছিল বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মতো অন্যান্য রাজ্য থেকে বহু মানুষকে গোপনে বাংলার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, যারা আসলে এই রাজ্যের বাসিন্দা নন। এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়া, যা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন সময়ে করা হয়েছে যখন চারদিকে বিশৃঙ্খলা চলছিল, যাতে বিষয়টি কারও নজরে না আসে।"
শেষে তিনি বলেন, এই ধরনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলার গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে দুর্বল করে রাজনৈতিক দখল নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি রাজ্যের প্রতিটি নাগরিককে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং নিজের এলাকায় সন্দেহজনক কার্যকলাপের উপর নজর রাখার জন্য বলেন, যাতে বাংলার গণতান্ত্রিক অধিকার ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করা যায়।

No comments:
Post a Comment