প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৩ মার্চ ২০২৬, ১৭:২৮:০১ : নরেন্দ্র মোদী লোকসভায় বলেছেন, ইরান ও ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া তেল-গ্যাস সংকট নিয়ে কেন্দ্র সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীল। তিনি জানান, সরকার একদিকে সতর্ক রয়েছে, অন্যদিকে যেকোনো সহায়তার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে ভারতে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, গ্যাস, সারসহ বহু প্রয়োজনীয় জিনিস আসে। যুদ্ধ শুরুর পর এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও সরকার চেষ্টা করছে যাতে পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসের সরবরাহে বড় কোনো প্রভাব না পড়ে।"
তিনি আরও বলেন, দেশে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানির উপর নির্ভরশীল। সরবরাহে অনিশ্চয়তা থাকায় সরকার গৃহস্থালির গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর কাজ করছে। একই সঙ্গে পেট্রোল ও ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতেও নজর রাখা হচ্ছে।
গত এক দশকে সংকট মোকাবিলার জন্য অপরিশোধিত তেলের মজুত বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে দেশের কাছে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টনের বেশি কৌশলগত তেল মজুত রয়েছে এবং আরও ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন মজুত তৈরির কাজ চলছে। শোধনাগারের সক্ষমতাও বেড়েছে এবং বিভিন্ন দেশের সরবরাহকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বহু ভারতীয় জাহাজ দেশে ফিরে এসেছে। এছাড়া গত ১১ বছরে জ্বালানিতে ইথানল মিশ্রণের ক্ষেত্রেও বড় অগ্রগতি হয়েছে। আগে যেখানে মাত্র ১ থেকে দেড় শতাংশ মিশ্রণ ছিল, এখন তা প্রায় ২০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এর ফলে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে চার কোটি ব্যারেল তেল আমদানি কমাতে পারা যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগে ভারত ২৭টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করত, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে ৪১ হয়েছে। কৃষিক্ষেত্র নিয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, দেশের কৃষকরা পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত রেখেছেন, ফলে খাদ্যের কোনও অভাব নেই। খরিফ মরসুমে বপন ঠিকভাবে করার দিকেও নজর রাখা হচ্ছে এবং সারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রে পর্যাপ্ত কয়লা মজুত রয়েছে। টানা দ্বিতীয় বছর একশো কোটির বেশি টন কয়লা উৎপাদন হয়েছে। পাশাপাশি নবীকরণযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রেও দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।"
পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "কূটনীতিতে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। শুরু থেকেই ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সব দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। সাধারণ নাগরিক, জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামোর ওপর হামলার নিন্দাও করা হয়েছে।"
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বা হরমুজ প্রণালীর মতো আন্তর্জাতিক জলপথ বন্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই পরিস্থিতিতেও ভারত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজেদের জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "যুদ্ধ কোনওভাবেই মানবতার পক্ষে নয়। তাই ভারতের লক্ষ্য সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগিয়ে নেওয়া। পাশাপাশি এমন সংকটে কেউ যাতে সুযোগ নিতে না পারে, সে জন্য উপকূল, সীমান্ত, সাইবার ও কৌশলগত স্থাপনার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।"

No comments:
Post a Comment