কলকাতা: 'ঠ্যালায় বিড়াল গাছে উঠতে শুরু করেছে', ভোটের মুখে ডিএ ঘোষণা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এভাবেই কটাক্ষ করলেন খড়গপুরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। রবিবার সকালে খড়গপুর শহরে দিলীপ ঘোষ একটি চা চক্রে অংশ নেন। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসকে তুলোধোনা করেন দিলীপ ঘোষ।
তিনি বলেন, "ডিএ নিয়ে প্রতিশ্রুতি আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে অনেক শুনেছি। কোর্ট বারবার বলা সত্ত্বেও উনি দেননি, তারিখ পিছিয়েছেন। এখন যত চাপ বাড়ছে, নির্বাচনে জেতা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। উনি ভবানীপুরে আটকে গেছেন। সরকাররি কর্মচারী থেকে শিক্ষক, এসএসসি পাশরা সবাই যেভাবে বিরোধীতা শুরু করেছেন, বাংলার মানুষ চাইছেন পরিবর্তন। আরও অনেক কিছু ঘটবে এখন।" তার কটাক্ষ, "এখন ঠ্যালায় বিড়াল গাছে উঠতে শুরু করেছে।" তিনি বলেন, "প্রতিশ্রুতি নয়, উনি আগে ডিএ দিন। তারপর ওনার সরকার থাকবে কিনা ঠিক নেই, কে দেবে!"
সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, 'নির্বাচন কমিশন কাজ করছে আদালত সবটা দেখছে। আমরাও চাই সঠিক সব ভোটারের নাম তালিকায় উঠে যাক ভোটের আগে।"
অমিত শাহের চার্জশিটের পাল্টা তৃণমূলের ১৫ পাতার চার্জশিট প্রসঙ্গে বিজেপি প্রার্থী বলেন, 'চার্জশিট খেয়ে এখন হুঁশ ফিরে গেছে তৃণমূলের। ওরা যদি পঞ্চাশ পাতার চার্জশিটও করে, কেউ শুনবে না। কারণ লোক চোখের সামনে দেখছে পনেরো বছরে ওরা কি অত্যাচার অনাচার করেছে, লুট-খুন করেছে। আজব ওদের লোকের সামনে দিতে হবে।'
মুখ্যমন্ত্রী সহানুভূতি কুড়াতে পায়ে প্লাস্টার মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধেন বলে শনিবার কটাক্ষ করেছেন অমিত শাহ। এরপরেই দুটো ঘটনা; একদিকে অভিষেকের সভামঞ্চে আগুন অন্যদিকে পুরুলিয়ার সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেলিংয়ে ধাক্কা, এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ বলেন, "এখন গ্ৰহও কুপিত তৃণমূলের ওপরে। যা ঘটনাগুলো ঘটছে, এগুলো তো কেউ ঘটাচ্ছে না।"
তিনি আরও বলেন, 'এই যে আরজি কর-সহ অন্যান্য ঘটনা ঘটেছে, এগুলো ওনারা আটকাতেও পারবেন না। এখনও খুন-ধর্ষণ চলছে। এগুলো আটকাতে পারবেন না, ওনাদের হাতে কিছুই নেই।' তাঁর কটাক্ষ, 'এখন ড্রামা করে লোককে বোকা বানানোর চেষ্টা করছেন।'
উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারি কর্মীদের ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা অর্থাৎ ডিএ এক কিস্তিতেই মিলবে। ৩১ মার্চের মধ্যেই মিলবে টাকা। ডিএ নিয়ে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে রাজ্য সরকার। আগের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া ডিএ দুই কিস্তিতে দেওয়া হবে; মার্চ ও সেপ্টেম্বরে। সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মিলবে এক কিস্তিতেই। তবে, ২০০৮ এপ্রিল থেকে ২০১৫-র ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ কবে দেওয়া হবে, ঘোষণা হয়নি এখনও।

No comments:
Post a Comment