প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫৮:০১ : ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সংঘাতের প্রেক্ষিতে ড্রোন প্রযুক্তির গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এখন ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ —এই সব যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে যে ভবিষ্যতের লড়াইয়ে ড্রোন ও প্রতিরোধমূলক ড্রোন প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তাই ভারতের উচিত ড্রোন নির্মাণে একটি শক্তিশালী পরিবেশ গড়ে তোলা এবং আগামী কয়েক বছরে এই ক্ষেত্রে বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠা।
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এই দুই অঞ্চলের সংঘর্ষ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে যে ড্রোন ও প্রতিরোধমূলক প্রযুক্তির গুরুত্ব কতটা বেশি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৌশলগত স্বাধীনতা, প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং আত্মনির্ভরতার জন্য দেশীয়ভাবে ড্রোন উৎপাদন অত্যন্ত জরুরি। তাই এমন একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সম্পূর্ণভাবে দেশেই ড্রোন তৈরি করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমান সময়ে দেশের প্রতিরক্ষা শক্তি এবং কৌশলগত স্বনির্ভরতার জন্য ড্রোন নির্মাণে সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং যন্ত্রচালিত প্রযুক্তি আজ বিশ্বজুড়ে উৎপাদন ক্ষেত্রকে বদলে দিচ্ছে। এর পাশাপাশি অনুকরণভিত্তিক প্রযুক্তিও নতুন সুযোগ তৈরি করছে। তিনি শিল্পক্ষেত্রের বড় সংস্থাগুলিকে তাদের পণ্যের মান দ্রুত উন্নত করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, প্রতিরক্ষা সামগ্রীতে আত্মনির্ভরতা শুধু চূড়ান্ত পণ্যের স্তরে নয়, তার প্রতিটি যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রেও জরুরি। অর্থাৎ ড্রোনের কাঠামো থেকে শুরু করে তার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, শক্তি উৎপাদন অংশ এবং ব্যাটারি—সব কিছুই দেশে তৈরি হওয়া দরকার। যদিও তিনি স্বীকার করেন, এই লক্ষ্য অর্জন সহজ নয়, কারণ অনেক দেশেই ড্রোন তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ অন্য দেশ থেকে আমদানি করা হয়।
এছাড়াও তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
এই সম্মেলনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে উদ্ভাবনভিত্তিক কর্মসূচির আওতায় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ কর্মসূচির সূচনা করেন, যেখানে বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার একাধিক সমস্যার সমাধানের জন্য নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া হবে।

No comments:
Post a Comment