'মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কাম্য নয়', আইপ্যাক মামলায় কড়া পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, March 18, 2026

'মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কাম্য নয়', আইপ্যাক মামলায় কড়া পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের


কলকাতা: সল্টলেকে আই প্যাকের অফিসে ইডির তল্লাশির ঘটনায় রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত গড়িয়েছে শীর্ষ আদালতে। সেদিন ইডির কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধয়ায়ের বিরুদ্ধে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ভূমিকার এদিন সমালোচনা করে সুপ্রিম কোর্ট।


বুধবার (১৮ মার্চ) আইপ্যাক মামলার শুনানি হয় প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি এন ডি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চে। এই সময় রাজ্য সরকার মামলা স্থগিত রাখার জন্য শীর্ষ আদালতে আবেদন করে। তবে তা খারিজ করে দেন বিচারপতিরা। তাঁরা জানিয়ে দেন, 'আইনজীবীরা কোর্টকে নির্দেশ দিতে পারেন না বরং বেঞ্চই ঠিক করবে কোর্ট কীভাবে চলবে।'


ইডির তদন্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, কোনও মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করা কাম্য নয়। বিচারপতিরা বলেন, 'এটা কোনওভাবেই সুখকর পরিস্থিতি নয়।' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও এদিন বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন।


শুনানির সময় বিচারপতিরা বলেন, 'সরকারি দফতরে গিয়ে একজন মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বাধা দিচ্ছেন। এর প্রতিকার কী? ভবিষ্যতে অন্য কোনও মুখ্যমন্ত্রী যদি একই কাজ করেন, তখন কী হবে?' আদালত আরও জানায়, এই ধরণের পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা যায় না।



এই পর্যবেক্ষণের সুপ্রিম কোর্টের ইঙ্গিত, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করা হতে পারে। আদালতের মতে, 'একটি অর্গানিক পরিস্থিতির মুখোমুখি আমরা, যেখানে কোনও কার্যকর প্রতিকার থাকা প্রয়োজন।'


কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির অভিযোগ, ৮ই জানুয়ারি তল্লাশির জন্য তাদের দল কলকাতায় রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক অফিসে ও প্রতীক জৈনের বাসভবন পৌঁছালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেখানে উপস্থিত হন। ইডির দাবী, তিনি ফাইল, নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে চলে যান। সংস্থাটি দাবী করেছে যে, মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িবহরের সঙ্গে ঘটনাস্থলে রাজ্যের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তাও উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেন। 


ইডি জানিয়েছে যে, এই ঘটনাগুলোর ভিডিও প্রমাণ রয়েছে, যা আদালতে পেশ করা যেতে পারে। এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস ইডির এই পদক্ষেপকে 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা'র ভাবনা আখ্যা দিয়েছে এবং অভিযোগ করেছে যে, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর অপব্যবহার করে বিরোধী দলগুলোকে নিশানা বানানো হচ্ছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad