নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি : রাজ্যে ক্রমশই বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। শিলিগুড়িও ব্যতিক্রম নয়। তবে এরই মাঝে রামনবমীর সকালে একেবারে ভিন্ন মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম দেব। শুক্রবার নিজের বাসভবনের ছাদের মন্দিরে ভগবান শ্রীরামের পুজো দিয়ে দিন শুরু করেন তিনি। প্রতি বছরের মতো এবছরও পারিবারিক ঐতিহ্য বজায় রেখে এই পুজোয় অংশ নেন গৌতম দেব।
পুজো শেষ হতেই রাজনীতির ব্যস্ততা সরিয়ে ভক্তিতে ডুবে যেতে দেখা যায় তাঁকে। হারমোনিয়াম হাতে বসে “সব কো সন্মতি দে ভগবান...” ভজন গেয়ে এক অন্য পরিবেশ তৈরি করেন তিনি। সেখানে উপস্থিত অন্যান্যদের কাছেও সেই মুহূর্ত হয়ে ওঠে বিশেষ। রাজনীতির বদলে এখানে জায়গা করে নেয় আধ্যাত্মিকতা।
পুজোর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গৌতম দেব জানান, তাঁদের পরিবার বরাবরই ধর্মীয় চর্চার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বাবা ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী এবং ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় মূল্যবোধের মধ্যে বড় হয়েছেন তিনি। তিনি জানান, তাঁদের পরিবারে নিয়মিত পুজো-অর্চনা হয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রতিবছর রামনবমীতে এই পুজো হয়। এই পুজো শুধুই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নয় বরং সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অংশ বলেই উল্লেখ করেন তিনি। গৌতম দেব বলেন, 'পুরুষোত্তম রামচন্দ্র আমাদের আদর্শ, হৃদয়ে থাকুন। ধর্মের মাধ্যমে ভেদাভেদ কাম্য নয়।'
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আরও বলেন, 'ভজনের মাধ্যমে তিনি শিলিগুড়ির বিজেপি প্রার্থীর জন্যও শুভবুদ্ধির কামনা করেছেন, এই গান তাঁকে উৎসর্গ করেছেন।' তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ধর্মকে কখনওই রাজনীতির সঙ্গে মেলাতে চান না। তাই নির্বাচনের আবহেও আজকের দিনটি তিনি কাটিয়েছেন শুধুই ভক্তি ও প্রার্থনার মধ্যে, দেশের শান্তি ও মানুষের কল্যাণ কামনায়।
রামনবমীর এই দিনটি যেন এক অন্য বার্তা দিয়ে গে; রাজনীতির প্রতিযোগিতার মাঝেও মানবিকতা, ভক্তি ও শুভবুদ্ধির আহ্বানই হতে পারে সবচেয়ে বড় শক্তি। আর সেই সুরই প্রতিধ্বনিত হল গৌতমের কণ্ঠে—“সব কো সন্মতি দে ভগবান...।”

No comments:
Post a Comment