প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ০২ মার্চ ২০২৬, ২১:২০:০১ : সোমবার (২ মার্চ) নরেন্দ্র মোদী দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে মার্ক জে কার্নি-র সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে ভারত ও কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার উপর জোর দেয়। পাশাপাশি বাণিজ্য, জ্বালানি ও কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধির দিকেও সম্মতি গড়ে ওঠে।
দুই দেশ ইউরেনিয়াম সরবরাহ নিয়ে প্রায় ২.৬ বিলিয়ন ডলারের একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করেছে এবং Comprehensive Economic Partnership Agreement (CEPA) দ্রুত চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিশা
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, ভারত ও কানাডা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। উভয় দেশই দূতাবাস ও কনস্যুলেটে কর্মীসংখ্যা ধাপে ধাপে বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।
নাগরিক নিরাপত্তা ও আইনগত সহযোগিতা
নাগরিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সন্ত্রাসবিরোধী যৌথ কার্যদল, কনস্যুলার সংলাপ, প্রত্যর্পণ ও লুকআউট নোটিস সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি আন্তঃদেশীয় অপরাধ ও মাদক চক্র মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।
বিচারিক প্রক্রিয়ার উপর গুরুত্ব
কানাডায় অপরাধীদের আশ্রয় পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে বিদেশ মন্ত্রক জানায়, এ ধরনের বিষয় জনসমক্ষে বিতর্ক না করে আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত।
কানাডার কিছু সংবাদ মাধ্যমে হারদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা ভারত স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে।
ইরান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
বৈঠকে ইরান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় দেশই উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং সকল পক্ষকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানায়। নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া ও কূটনৈতিক পথে সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়।
জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা
এই সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল জ্বালানি সহযোগিতা। সিভিল নিউক্লিয়ার সহযোগিতা, রিঅ্যাক্টর ভ্যালু চেইন এবং ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া যৌথ ট্যালেন্ট ও ইনোভেশন স্ট্র্যাটেজি তৈরি, দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণা সহযোগিতা জোরদার করার কথাও বলা হয়েছে। সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং ২০২৬ সালের ট্রাইবাল ফেস্টিভ্যালে কানাডার অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সম্পর্কের নতুন অধ্যায়
এই বৈঠকের মাধ্যমে ভারত-কানাডা সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের দিকে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অর্থনীতি, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, জ্বালানি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতাকে সামনে রেখে ভবিষ্যতে আরও স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে দুই দেশ এগোচ্ছে।
.jpg)
No comments:
Post a Comment