প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪০:০১ : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) সোমবার বড় ঘোষণা করেছে। তারা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি এই পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তবে সেই জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে চলা সংঘাতের বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি
IRGC-র এক শীর্ষ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইব্রাহিম জাবারি জানান, “হরমুজ প্রণালী এখন বন্ধ। কেউ যদি পার হওয়ার সাহস করে, তবে রেভল্যুশনারি গার্ড ও নৌবাহিনী সেই জাহাজ ধ্বংস করে দেবে।”
এই হুঁশিয়ারি এমন সময়ে এসেছে, যখন কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হওয়ার দাবি ঘিরে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালী হলো পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ জলপথ। বিশ্বের প্রায় ২০% তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরান থেকে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ এই পথ ব্যবহার করে, যার বড় অংশ যায় এশিয়ার দেশগুলোতে, বিশেষ করে চীন-এ।
প্রণালীর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ প্রায় ৩৩ কিলোমিটার চওড়া এবং এটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর-এর সঙ্গে যুক্ত করে। এটি আন্তর্জাতিক জলপথ হওয়ায় জাহাজ চলাচলের অধিকার রয়েছে, যদিও ইরান ও ওমান এর আশেপাশের জলসীমা নিয়ন্ত্রণ করে।
এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। এর আগে সামরিক মহড়ার সময় সাময়িকভাবে চলাচল সীমিত হওয়ায় তেলের দাম প্রায় ৬% বেড়ে গিয়েছিল। ১৯৮০-র দশকে ট্যাঙ্কার যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এখানে জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছিল, তবে পুরোপুরি পথ বন্ধ কখনও করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার পর ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন-এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং ওমান-কেও লক্ষ্য করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে এখন প্রশ্ন—এর পর কী? যদি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তেলের সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগবে, বিশেষ করে এশিয়ার বাজারে। যদিও কিছু বিকল্প পাইপলাইন রয়েছে, তবে অধিকাংশ তেলের জন্য এই পথের কোনও কার্যকর বিকল্প নেই।

No comments:
Post a Comment