মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা একটি নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের 'ইউরেনিয়াম চুক্তি'র দাবিকে ইরান দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করে একে 'মিথ্যা' আখ্যা দিয়েছে। তেহরানের এই কঠোর অবস্থান সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়েছে, যা একটি ঐতিহাসিক সাফল্যের আশা জাগিয়েছিল।
ট্রাম্পের দাবি: ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে 'পারমাণবিক ধূলিকণা' দেবে
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে, দুই দেশ একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে। তিনি এই বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তার ইউরেনিয়াম (পারমাণবিক ধূলিকণা) হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্প এমনকি ইঙ্গিত দেন যে, চুক্তির স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি পাকিস্তান সফর করতে পারেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে খুলে যাবে, যা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে।
ইরানের পাল্টা জবাব: "এক মুঠো ইউরেনিয়ামও দেওয়া হবে না।"
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের ঘনিষ্ঠ সূত্র ও সরকারি কর্মকর্তারা ট্রাম্পের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইরান স্পষ্ট করেছে যে:
ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট আলোচনা হয়নি।
আলোচনায় কোনো বড় অগ্রগতি বা সাফল্য অর্জিত হয়নি।
ভবিষ্যৎ আলোচনা কেবল তখনই এগোবে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমস্ত শর্ত মেনে নেয়।
বিবাদের মূল কারণ: ৫ বছর বনাম ২০ বছর
এই পুরো বিবাদের মূল কারণ হলো পারমাণবিক কর্মসূচির সময়সীমা। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে একটি ম্যারাথন বৈঠক চলে, কিন্তু কোনো ফল পাওয়া যায়নি। প্রধান মতপার্থক্যগুলো নিম্নলিখিত বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে:
বিবাদের মূল কারণ: ৫ বছর বনাম ২০ বছর
এই পুরো বিবাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো পারমাণবিক কর্মসূচির সময়সীমা। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ২১ ঘন্টা ধরে একটি ম্যারাথন বৈঠক চলে, কিন্তু তা থেকে কোনো ফল পাওয়া যায়নি। প্রধান মতপার্থক্যগুলো নিম্নলিখিত বিষয়গুলিতে রয়েছে:
বিষয়: মার্কিন প্রস্তাব; ইরানের অবস্থান; আগামী ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের উপর স্থগিতাদেশ; শুধুমাত্র ৫ বছরের জন্য প্রস্তুত একটি স্থগিতাদেশ; অস্ত্র নীতি; পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার একটি স্থায়ী নিশ্চয়তা; নিজস্ব শর্তে প্রযুক্তি বিকাশের অধিকার
এরপর কী? অনিশ্চয়তার মেঘ
ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি কোনো "অস্থায়ী" চুক্তির পক্ষে নন এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চান। অন্যদিকে, ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে নিছক একটি "রাজনৈতিক বয়ান" হিসেবে বিবেচনা করে। দুই দেশের বিবৃতির এই সুস্পষ্ট পার্থক্য ইঙ্গিত দেয় যে শান্তির পথ এখনও অত্যন্ত কঠিন।

No comments:
Post a Comment