দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ১৪ এপ্রিল ২০২৬: নির্বাচনের আবহেই উদ্ধার বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। ঘটনায় আটক বিজেপির দুই শীর্ষ নেতা। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে। সোমবার দুপুরে উস্তি থানার পুলিশের পক্ষ থেকে উস্তির হটুগঞ্জ এলাকায় নিয়মিত নাকা চেকিং চলছিল। সেই সময় একটি চারচাকা গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হটুগঞ্জ থেকে উস্তির দিকে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজন ওই গাড়িটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় গাড়ির ভেতর থেকে মোট ৯ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এত বড় অঙ্কের নগদ টাকা উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় দু’জনকেই আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন অর্ণব মজুমদার, যিনি মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপির ইনচার্জ হিসেবে পরিচিত এবং আকাশ চক্রবর্তী, যিনি ওই কেন্দ্রের বিজেপির কনভেনার পদে রয়েছেন বলে জানা গেছে। নির্বাচনের সময় বিপুল অঙ্কের নগদ টাকা উদ্ধার হওয়ায় গোটা ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
এই টাকা কোথা থেকে আনা হচ্ছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারির মধ্যেই এই ধরণের নগদ অর্থের লেনদেন আইনসিদ্ধ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উস্তি থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে টাকার উৎস এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি গাড়ির নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আয়কর দফতর এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকেও এই বিষয়ে জানানো হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের সময় এলাকায় যাতে কোনও ধরণের বেআইনি লেনদেন না হয়, সেজন্য বিভিন্ন জায়গায় নাকা চেকিং জোরদার করা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে হটুগঞ্জ এলাকায় এই অভিযান চালানো হচ্ছিল। আর এতেই উদ্ধার হয় এই বিপুল পরিমাণ নগদ। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে এই টাকা ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল কি না?
এদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, নির্বাচনে প্রভাব ফেলতেই এই বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে, সব মিলিয়ে, নির্বাচনের মুখে এই ঘটনা মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। তদন্তে কী উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর।

No comments:
Post a Comment