নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা: মালদার মোথাবাড়ি কাণ্ডের তদন্তে মোথাবাড়িতে পৌঁছল এনআইএ দল। শুক্রবার বিকালে দলের তদন্তকারী অফিসাররা প্রথমে মোথাবাড়ি থানায় পৌঁছান। এরপর থানা থেকে মোথাবাড়ি বিড়িও অফিসে যান বলে খবর। উল্লেখ্য, গত বুধবার ভোটাধিকার রক্ষার দাবীতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মালদার মোথাবাড়িতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া ভোটাররা এদিন প্রথমে দিনভর মোথাবাড়িতে পথ অবরোধ করেন। এরপর অনেক রাত পর্যন্ত মোথাবাড়িতে অবস্থিত কালিয়াচক-২ নং বিডিও অফিস ঘেরাও করে রাখেন। সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে আটকে রেখে তুমুল বিক্ষোভ দেখান। এরপর গভীর রাতে পুলিশ গিয়ে সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে কোনওমতে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এই ঘটনায়, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সিবিআই বা এনআইএ তদন্ত করার নির্দেশ নির্বাচন কমিশনকে। যার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন এনআইএ-র হাতে তদন্তভার তুলে দেয়। আর তদন্তভার নিয়েই শুক্রবার বিকালে মালদার মোথাবাড়িতে পৌঁছান জাতীয় তদন্তকারী দলের আধিকারিকরা।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার দফায় দফায় মালদার মোথাবাড়ি সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভের নামে রীতিমতো চলে তাণ্ডব। এসআইআরের কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারককে কালিয়াচক ২ নং ব্লক অফিসের ভিতরে গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রাখা হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসআইআরের কাজ করছিলেন এই জুডিশিয়াল অফিসাররা। এরপর গভীর রাতে পুলিশ গিয়ে সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে কোনওমতে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এই ঘটনায় মোথাবাড়ি ও কালিয়াচক থানা মিলিয়ে মোট ১৯টি মামলা রুজু করা হয়েছে। ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে এনআইএ প্রথম এই দুটি থানায় যাবে। তদন্তকারী আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে কেস সম্পর্কিত যাবতীয় নথি নেবেন। ৬ এপ্রিলের মধ্যে শীর্ষ আদালতে তাঁরা তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবেন।
এদিকে মোথাবাড়িতে অশান্তির ঘটনায় শুক্রবার সকালে পুলিশের জালে আটকা পড়ে মূল প্ররোচনাকারী আইনজীবী মোফাক্কারুল ইসলাম। প্রথমে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে তাঁকে পাকড়াও করে সিআইডি। পরে এডিজি উত্তরবঙ্গ তাঁকে গ্রেফতারের কথা জানান। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার মোফাক্কারুলের এক সহযোগী এক্রামুল বাগানি। মোথাবাড়িকাণ্ডে ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে মোফাক্কারুলের ভিডিও। কালিয়াচক ২ নম্বর বিডিও অফিসে অশান্তির সময় গাড়ির মাথায় উঠে বক্তৃতা দিতে দেখা গেছে তাঁকে।
পুলিশের দাবী, মোফাক্কারুলই ঘটনার মূল প্ররোচনাকারী। পুলিশ জানিয়েছে, কালিয়াচক ২ নং বিডিও অফিসের সামনে উস্কানিমূলক ভাষণ দেন মোফাক্কারুল। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাগডোগরা বিমানবন্দরে ধৃত সহযোগী এক্রামুলও। পুলিশ জানিয়েছে, ধরপাকড় শুরু হতেই ২ জনেই বেঙ্গালুরু পালানোর চেষ্টা করছিলেন। আইনজীবী মোফাক্কারুল ইসলাম উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের বাসিন্দা। কালিয়াচক থানাতেই তাঁর বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, মালদার কাণ্ডে ধৃত মিম নেতা মোফাক্কারুল ইসলামকে এদিন মালদা জেলা আদালতে পেশ করা হয়।

No comments:
Post a Comment