কলকাতা, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৩৫:০২ :আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমস্ত রাজনৈতিক দল জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছে। পাশাপাশি দলগুলোর মধ্যে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পর্বও অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর একটি মন্তব্য সামনে এসেছে। তিনি নন্দীগ্রামে মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকদের সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের পর তাঁদের কাজের জন্য শাসকদল পরিচালিত রাজ্যগুলিতে ফিরে যেতে হবে। তাই নিজেদের আচরণ ঠিক করে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে একে সরাসরি হুমকি বলে আখ্যা দিয়েছে।
রবিবার নন্দীগ্রামের সোনাচূড়া ও গোকুলনগরে নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভোটের পরে শ্রমিকদের শাসকদল পরিচালিত রাজ্যে ফিরে যেতে হবে, তাই ভুল না করে নিজেদের অভ্যাস ঠিক করতে হবে। তিনি দাবি করেন, নন্দীগ্রামের প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক গুজরাট, মহারাষ্ট্র ও ওডিশায় কাজ করেন। বিশেষভাবে মুসলিম যুবকদের উল্লেখ করে বলেন, এই রাজ্যগুলিতে একই দলের সরকার রয়েছে, তাই তারা কোনো ভুল করার ঝুঁকি নিতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, “নিজেদের আচরণ ঠিক করে নাও, যাতে ৪ মে-র পরে কোনো সমস্যা না হয়। তোমরা হুমকির দৃষ্টি দেখাতে পারো, ‘জয় বাংলা’ বলতে পারো, কিন্তু আমি সব কিছু নথিভুক্ত করে রাখছি।”
এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। নন্দীগ্রামের প্রার্থী পবিত্র কর বলেন, এই ধরনের রাজনীতি শুধু ভয় দেখানো ও হুমকির ওপর নির্ভর করে। একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা তাঁর দায়িত্ব, কিন্তু তিনি তার উল্টো কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, নন্দীগ্রামের মানুষ ভোটযন্ত্রের মাধ্যমে এই হুমকির জবাব দেবে।
দলীয় মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই ঘটনার অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে জানানো হবে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হবে কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।
অন্যদিকে কলকাতার একটি জননীতি গবেষণা সংস্থা সাবার ইনস্টিটিউটের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নন্দীগ্রামের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে ৯৫.৫ শতাংশই মুসলিম, যেখানে ওই অঞ্চলের মোট জনসংখ্যায় তাঁদের অংশ প্রায় ২৫ শতাংশ। বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে মাত্র ৪.৫ শতাংশ অমুসলিম।
সংস্থার পরিচালক সাবির আহমেদ জানান, এই বৈষম্য প্রাথমিক গণনায় নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে স্পষ্ট হয়েছে। ডিসেম্বরের গণনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা সংখ্যালঘু জনসংখ্যার অনুপাতে প্রায় সমান ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে এই পার্থক্য অনেক বেড়ে যায়।

No comments:
Post a Comment