ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৩ মে ২০২৬: তিন বছরের এক শিশুপুত্রকে ধর্ষণ করে খুন। অভিযোগ এক নাবালকের বিরুদ্ধে। মহারাষ্ট্রের পুনেতে ঘটেছে এই নক্ক্যারজনক ঘটনাটি। শিশুটির মৃতদেহ একটি স্যুটকেসের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত শিশুটির পাড়াতেই থাকত এবং তাকে আটক করা হয়েছে। এই সপ্তাহে পুনেতে এটি দ্বিতীয় এমন ঘটনা। এর আগে চার বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধকে গ্ৰেফতার করা হয়।
পুলিশের মতে, ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছিল শুক্রবার, ১ মে। তিন বছর বয়সী শিশুটি তার বাড়ির বাইরে খেলার সময় হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। তার পরিবার পুরো এলাকা জুড়ে তাকে খোঁজে, কিন্তু তার সন্ধান মেলেনি। এরপর তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরে আধিকারিকরা নতুন করে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন, যা তাঁদের নিয়ে যায় শিশুটির বাড়ির কাছের একটি বাড়িতে। সেখানেই তাঁরা শিশুটিকে মৃত অবস্থায় পান।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, খুনের আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। এরপর ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ধারা ১০৩(১) (খুন), ২৩৮ (অপরাধের প্রমাণ লোপাট) এবং শিশু যৌন নিপীড়ন (পকসো) আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজসহ প্রযুক্তিগত প্রমাণ এবং গোপনীয় তথ্যের ওপর নির্ভর করে একজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেন, যে নিজেই একজন নাবালক বলে জানা যায়। তদন্তে জানা গেছে, ওই নাবালক বিহারের বাসিন্দা। অভিযোগ, সে পুনে থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, কিন্তু শহরের রেলস্টেশনের বাইরে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, সে তার অপরাধ স্বীকার করেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই নাবালক চকলেটের লোভ দেখিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল শিশুপুত্রকে। এমনকি শিশুটির মা তার ছোট্ট ছেলেকে খুঁজতে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। তবে, অভিযুক্ত তাকে ভুল বুঝিয়ে সেখান থেকে পাঠিয়ে দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ ঢাকার চেষ্টায় ওই নাবালক, তিন বছর বয়সী শিশুটিকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন করে এবং মৃতদেহ একটি স্যুটকেসে লুকিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনাটি সেই একই দিনে ঘটে, যেদিন পুনের নিকটবর্তী একটি গ্রামে ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি চার বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের পর খুন করে বলে অভিযোগ। শিশুটি তাঁর দিদার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। অভিযুক্ত খাবারের লোভ দেখিয়ে একটি গোয়ালঘরের নিয়ে গিয়ে প্রথমে তাকে ধর্ষণ করে, এরপর পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন করে দেহ গোবরচাপা দিয়ে রাখে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রণক্ষেত্রর চেহারা নেয় এলাকা। ওই বৃদ্ধকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, আগেও অভিযুক্তর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ছিল। পুলিশ ১৫ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল ও ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে বিচার পরিচালনাসহ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।

No comments:
Post a Comment