বীরভূম: বিধানসভা ভোটের ফলাফল বেরোনোর আগেই দুবরাজপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। সৌজন্যে, দুবরাজপুর শহর তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ। ২রা মে ওই পেজে ‘খেলা হবে’, ‘ভয়ংকর খেলা হবে’, ‘পাড়ায় পাড়ায় খেলা হবে’ এবং সবথেকে বিতর্কিত ‘বাড়ি থেকে বের করে এনে খেলা হবে’—এই মর্মে বেশ কিছু পোস্ট করা হয়। আর এই পোস্টগুলো ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। যদিও কিছুক্ষণ পরই ঐ পোস্ট ডিলিট করে দেওয়া হয়। তবে ততক্ষণে তা ছড়িয়ে পড়ে।
তৃণমূলের এই ফেসবুক পোস্টগুলি প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধীদের মেজাজও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ‘বাড়ি থেকে বের করে এনে খেলা হবে’—এই বাক্যটিকে সাধারণ ভোটার ও বিরোধী কর্মীদের প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছে পদ্ম শিবির। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের ভয় দেখিয়ে বসিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি প্রার্থী অনুপ কুমার সাহা ও দুবরাজপুর শহর মণ্ডল ৬-এর বিজেপি সভাপতি দেবজ্যোতি সিং।
তাঁদের দাবী, তৃণমূল কংগ্রেস এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু দুবরাজপুর বিজেপির শক্ত ঘাঁটি, তাই এখানকার মানুষ বা কর্মীরা এই হুমকিতে ডরবেন না। তাঁদের আরও অভিযোগ, একটি ওই সমাজমাধ্যম পাতার মাধ্যমে উস্কানিমূলক বার্তা ছড়ানো হচ্ছে। সেখানে ‘খেলা হবে’, ‘ভয়ংকর খেলা হবে’, ‘বাড়ি থেকে বের করে খেলা হবে’—এরকম ভাষায় বিজেপি কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি শক্তিশালী হওয়ায় তৃণমূল ভয় পেয়েই এই ধরণের কাজ করছে।
এই ঘটনার বিষয়ে বিজেপি ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে। যে ফেসবুক পেজ থেকে এই হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তার নেপথ্যে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ঋজু দাস নামে এক যুবকের যোগসূত্র পাওয়া গেছে বলে দাবী করেন দেবজ্যোতি সিং।
অন্যদিকে, দুবরাজপুর শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি স্বরূপ আচার্য জানান, দুবরাজপুরে গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল ক্ষমতায় আছে এবং এই সময়ে কারও ওপর কোনও অন্যায় বা অত্যাচার হয়নি। বিজেপি অকারণে এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিজেপি মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে এবং উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইছে।
তিনি স্পষ্ট করেন, তাদের 'খেলা হবে' মানে হল শান্তির খেলা, আবির নিয়ে খেলা। তারা রবীন্দ্রনাথের গান গেয়ে এবং সবুজ আবির মেখে উৎসব করতে চান, কোনও রকম সহিংসতায় জড়াতে চান না।

No comments:
Post a Comment