পশ্চিমবঙ্গে সদ্য সমাপ্ত বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে এবার বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, শুধুমাত্র মুর্শিদাবাদ জেলা থেকেই প্রায় পাঁচ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও প্রশাসনিক জটিলতার প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিশেষ আবেদন জানালেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অধীররঞ্জন চৌধুরী।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে অধীররঞ্জন দাবি করেছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় পড়েছেন। তাঁর বক্তব্য, নাম বাদ যাওয়া মানুষের বড় অংশই সমাজের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা শ্রেণির মানুষ। দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, প্রবীণ নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং প্রান্তিক পরিবারের বহু মানুষ এই সমস্যার শিকার হয়েছেন।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, মুর্শিদাবাদ এমনিতেই রাজ্যের অন্যতম আর্থিকভাবে অনগ্রসর জেলা। সেখানে বহু মানুষ এখনও দৈনিক আয়ের উপর নির্ভর করে সংসার চালান। ফলে ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর জন্য দূরের শহর বা নির্দিষ্ট কেন্দ্রে গিয়ে আইনি লড়াই করা তাঁদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে যাতায়াত খরচ জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছেন। আবার প্রবীণ ও অসুস্থ মানুষদের জন্য এই প্রক্রিয়া আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।
এই পরিস্থিতিতে অধীররঞ্জন চৌধুরী মুর্শিদাবাদের প্রতিটি ব্লকে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ব্লক স্তরে ট্রাইব্যুনাল তৈরি হলে সাধারণ মানুষ নিজেদের এলাকার কাছেই অভিযোগ জানাতে পারবেন। এতে সময় ও অর্থ— দুইয়েরই সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি দ্রুত সমস্যার সমাধানও সম্ভব হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটার তালিকা থেকে এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়ার ঘটনা আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। বিরোধীদের অভিযোগ, তালিকা সংশোধনের নামে বহু প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়ে গিয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা আইনি উপায়ে পুনরায় আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
মুর্শিদাবাদে এই বিষয়টি ঘিরে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ তুলছেন। বহু পরিবারে একাধিক সদস্যের নাম তালিকায় না থাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় তথ্যের অভাব ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে মানুষ আরও সমস্যায় পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অধীররঞ্জনের দাবি, ভোটাধিকার দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। তাই কোনও সাধারণ মানুষ যেন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। সেই কারণেই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দ্রুত ব্লকভিত্তিক আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এখন দেখার, সরকার এই দাবি কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানে কী পদক্ষেপ নেয়।

No comments:
Post a Comment