কলকাতা: 'তৃণমূলের হার-বার' মডেলে!' ডায়মন্ড হারবার মডেলকে এভাবেই কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলতায় ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হয়ে যেতেই প্রাক্তন শাসকদলকে খোঁচা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ডায়মন্ড হারবার লোকসভার কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র এত দিন তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি বলেই পরিচিত ছিল। ক্ষমতার পালাবদলের পরে পুনর্নির্বাচনে কার্যত ভেঙে পড়েছে সেই ঘাঁটি। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোয় ফাঁকা মাঠে গোল দিয়েছে বিজেপি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, "কুখ্যাত 'ডায়মন্ড হারবার' মডেল পরিণত হল 'তৃণমূলের হার-বার' মডেলে !!!" মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, "ফলতার ভোটারদের কাছে বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ। বিজেপির প্রার্থীকে এক লক্ষ ভোটে জেতানোর আবেদন করেছিলাম। জয়ের ব্যবধান এক লক্ষ আট হাজার পেরিয়েছে। উন্নয়নের মাধ্যমে আপনাদের এই ঋণ শোধ করব। সোনার ফলতা গড়ার জন্য আমরা দায়বদ্ধ।"
শুভেন্দর কটাক্ষ, "একটি নীতি-আদর্শহীন দল, যা মাফিয়া কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়েছিল, ক্ষমতা হারাতেই তার কঙ্কালসার দশা উন্মোচিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার করে সরকারি ধন লুট, মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ তোলাবাজি, সিন্ডিকেট ও থ্রেট কালচারের মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে এই দলের নেতারা ধরাকে সরা জ্ঞান করেছিল।"
শুভেন্দু লেখেন, 'প্যারাসুটে নেমে সেনাপতি আখ্যা পাওয়া এক জালিয়াত, এমন কোনও অপরাধ নেই যা সংগঠিত করেনি। নিজের অপরাধ সিন্ডিকেটকে প্রতিষ্ঠিত করতে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করতেও কোনও কসুর করেনি এই 'বাঘের ছাল পরিহিত বেড়াল'। ফলস্বরূপ, বিগত নির্বাচনকে পরিহাসে পরিণত করে এই বিধানসভা ক্ষেত্রে দেড় লাখ ভোটের লিড নিয়েছিল তৃণমূল। ১৫ বছর পরে যখন মানুষ নিজের ভোেট নিজে দেওয়ার স্বাধীনতা ফিরে পেলেন, তখন আসল বাস্তব প্রকাশিত হল। আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের সামনে নির্বাচনে 'নোটা'-র বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে।'
তিনি আরও লিখেছেন, 'সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে 'নোটা'-র কাছেও পরাজিত হয়েছে। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গেও এই জমজমাট লড়াই প্রত্যক্ষ করার অপেক্ষায় রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গবাসী...।'
অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স পোস্টে লিখেছেন, 'আজ ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ভোটগণনা অনেক অসঙ্গতি সামনে এনে দিল। আজ দুপুর সাড়ে ৩টের মধ্যেই ২১টি রাউন্ডের গণনা শেষ হয়ে গিয়েছে। অথচ গত ৪ মে ঠিক একই সময় পর্যন্ত মাত্র ২-৪ রাউন্ডের গণনা হয়েছিল। দেশের মানুষের কাছে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিৎ নির্বাচন কমিশনের।'
অভিষেকের অভিযোগ, গত ১০ দিনে ফলতায় এক হাজারেরও বেশি দলীয় কর্মীকে ঘরছাড়া করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও কমিশন কোনও পদক্ষেপ করেনি। আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ থাকা সত্ত্বেও তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙা হয়েছে। গোটা বিধানসভা নির্বাচন নিয়েই অভিষেক বলেন, 'যত ক্ষণ না আপস করা আধিকারিকদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে এবং গণনা প্রক্রিয়ার সিসিটিভি-র নিরপেক্ষ তদন্ত হচ্ছে, তত ক্ষণ এই জনাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আরও তীব্র হতে থাকবে।'



No comments:
Post a Comment