উত্তর ২৪ পরগনা: বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ ছাড়লেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। রবিবার পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানান তিনি। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে একথা জানালেন কাকলি। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকেও এই বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন তিনি।
তিনি লিখেছেন, "আদর্শনিষ্ঠা ও মানবিক রাজনীতির মাধ্যমেই সমাজে আস্থা ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি আরও সুদৃঢ় হতে পারে বলে আমার মনে হয়। এই বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় দলের ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় নৈতিক দায় নিয়ে আমি বারাসত জেলা সংসদীয় সভাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাই।" পাশাপাশি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তাঁর আবেদন, "বিগত দিনের মতো সৎ, নিষ্ঠাবাদ পুরনো কর্মীদের নিয়ে কাজ করলে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে মনে হয়। ভূঁইফোড় সংস্থা দিয়ে কঠিন কাজ হয় বলে মনে হয় না।"
পাশাপাশি এদিন সাংবাদিক সম্মেলনেও দলের দুর্নীতি প্রসঙ্গেও সরব হন তিনি। কাকলি বলেন, "২০১১ - র পর যারা মধু সংগ্রহ করতে এসেছে, তাঁদের যেসব মন্তব্য ফেসবুকে আসছে তা সহ্য হচ্ছে না। এইভাবে ফেসবুকে আক্রমণ অনুচিত, অন্যায়।" সাংসদ বলেন, "তাঁরা জানেই না বিগত কয়েক বছরে যে বৈভব, যে অস্বচ্ছতা, দুর্বৃত্তায়ণ ঘটেছিল, তাতে আমার কোনও সহমত ছিল না। বিভিন্ন স্তরে যে ধরণের অনৈতিকতা ছিল, সেগুলোর সঙ্গে আমার সংঘাত হয়েছে।"
তিনি বলেন, 'বিগত ৫-৭ বছরের এই বৈভবে আমি অভ্যস্ত নই। আমি মনে করি, যদি রাজনীতি করতে হয় মানুষের জন্য কাজ করতে হয়, সমাজসেবা করতে হয়, তাহলে নিজেকে মানুষের সঙ্গে মিলিয়ে দিতে হবে, বিলিয়ে দিতে হবে।'
তিনি বলেন, "এই অস্বচ্ছতা, বৈভব এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা দরকার। আর এবারের নির্বাচনে ফলাফল, বিশেষ করে এই জেলায় যেখানকার আমি সাংগঠনিক সভাপতি, নৈতিক ভাবে এর দায়ভার আমার আমার আছে। তাই আমি আমাদের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির কাছে আমার পদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছি। আমি সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি।"
তিনি এও বলেন, "দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে বেশ কয়েক বছর থেকেই কথা বলা যায় না কারণ উনি খুব ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু উনি যদি হাল ধরেন এবং উনি যেভাবে দলটা পরিচালনা করেছেন, উনি যেভাবে মানুষের কাজ করেছেন, আমার বিশ্বাস একমাত্র উনি পারবেন এই পরিস্থিতিটা ভালো করতে।"
পাশাপাশি নাম না করেই আইপ্যাকের বিরুদ্ধে সরব হন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি বলেন, "হঠাৎ করে একটা ভুঁইফোড় সংস্থা আসল, তারা এসে ধমকালো। তারা যেভাবে পরিচালনা করেছে, আমার দলকে সর্বনাশ করে দিয়েছে।"
উল্লেখ্য, সম্প্রতি লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদ থেকে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবর্তে ওই পদে ফিরিয়ে আনা হয় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তার পরেই সমাজমাধ্যমে মুখ খোলেন কাকলি। একটি পোস্টে লেখেন, '৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরষ্কৃত হলাম।'


No comments:
Post a Comment