মালদা: প্রকাশ্য রাস্তায় মহিলাকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তিনি। আর সেই আক্রোশেই বিজেপি নেতা তথা আইনজীবীর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ। রাস্তায় ফেলে এলোপাথাড়ি কোপ। গুরুতর জখম অবস্থায় মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী কিরণ সাহা। রবিবার দুপুরে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় মালদার চাঁচল থানার আশাপুর এলাকায়। ঘটনায় অভিযুক্তের শাস্তির দাবীতে চাঁচল আশাপুর রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ স্থানীয়দের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামাতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রের খবর, কয়েক মাস আগে এলাকার এক মহিলাকে প্রকাশ্যে উত্ত্যক্ত করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার প্রতিবাদ করেন স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী কিরণ সাহা। মহিলাকে উত্ত্যক্তের ঘটনায় জড়িত হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপর ঠিক তার কয়েকমাস পরেই আজ প্রকাশ্যে প্রতিবাদকারীকে চপার দিয়ে কোপানোর অভিযোগ ওঠে। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে প্রথমে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় তাঁকে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
এরপরই স্থানীয়রা অভিযুক্তের গ্রেফতারের দাবীতে চাঁচল-আশাপুর রাজ্য সড়ক অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখান। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছান চাঁচল থানার আইসি জয়দেব ঘোষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। যদিও পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ ওঠে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে চাঁচল থানার পুলিশ। চাঁচলের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সোমনাথ সাহা বলেন, "ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
এই দিন আক্রান্ত বিজেপি কার্যকর্তাকে হাসপাতালে দেখতে ছুটে আসেন মালদা জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি রতন দাস সহ অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব।
আক্রান্ত কিরণ সাহা হাসপাতাল থেকে বলেন, "এলাকার এক মহিলাকে বিরক্ত করছিল হাবিবুর। আমি সেই ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলাম। সেই আক্রোশ থেকেই আজ আমার উপর হামলা চালানো হয়েছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাকে কোপানো হয়।"
ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিজেপি। মালদা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি যুব মোর্চার সহ-সভাপতি প্রসেনজিৎ দাস বলেন, "পুরনো শত্রুতার জেরেই এই হামলা হয়েছে। কিরণ সাহা এলাকায় প্রতিবাদী মুখ হিসেবে পরিচিত। তিনি ভোটে প্রার্থীও হয়েছিলেন। এক মহিলাকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করেছিল বলেই ওর উপর এই হামলা চালানো হয়েছে। আমরা অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।"
অন্যদিকে স্থানীয় থানার আইসির দাবী, যদি সাধারণ মানুষ এলাকার ঠিক মতো আদালতে সাক্ষ্য দান করেন তাহলে অভিযুক্তর সর্বোচ্চ শাস্তির উদ্যোগ নেবে চাঁচল থানার পুলিশ।

No comments:
Post a Comment