ভোটগ্রহণ পর্ব মিটতেই এখন সবার নজর স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার দিকে। বৃহস্পতিবার রাতে ইভিএম নিয়ে কারচুপির অভিযোগ ঘিরে ভবানীপুরের গণনাকেন্দ্র শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছে যান খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়।
এর পরেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, কোনওভাবেই যেন শাসকদলের প্রার্থী বাড়তি সুবিধা না পান, তা নিশ্চিত করতে বিজেপি সম্পূর্ণ সতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ভোটগণনার আগে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
বিরোধী দলনেতার কথায়, মুখ্যমন্ত্রী যতক্ষণ স্ট্রং রুম এলাকায় ছিলেন, ততক্ষণ তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ নজরদারির আওতায় রাখা হয়। তিনি আরও জানান, তাঁর দলের নির্বাচনী প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রেখেছেন, যাতে কোনও অনিয়ম না ঘটে।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইভিএম সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ সামনে আসায় তিনি নিজেই সেখানে গিয়েছেন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে। তাঁর বক্তব্য, প্রার্থী হিসেবে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই তিনি স্ট্রং রুমের বাইরে পর্যন্ত গিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ভোট গণনায় কোনও কারচুপি হলে তা মেনে নেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে কঠোরভাবে প্রতিবাদ করা হবে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে স্লোগান-পাল্টা স্লোগান পরিস্থিতিকে আরও গরম করে তোলে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য আসলে নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়েরই অংশ। একদিকে শাসকদল আত্মবিশ্বাসী, অন্যদিকে বিরোধীরা নজরদারির বার্তা দিয়ে চাপ তৈরি করতে চাইছে।
এখন দেখার, এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসে কি না। তবে এতেই স্পষ্ট, ভোট শেষ হলেও রাজনৈতিক উত্তাপ এখনও কমেনি।

No comments:
Post a Comment