ভোটগ্রহণ শেষ হতেই রাজ্যজুড়ে এখন নজর স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে। বিকেলেই ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কার কথা প্রকাশ্যে আনেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, ভোটের যন্ত্র সুরক্ষিত রাখতে কড়া নজরদারি জরুরি এবং দলীয় কর্মীদেরও সতর্ক থাকতে বলেন।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবহাওয়ার প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে ভবানীপুরের গণনাকেন্দ্র শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছে যান তিনি। প্রার্থী হিসেবে নিজের দায়িত্বে সেখানে গিয়ে স্ট্রং রুমের বাইরে থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। রাত গভীর হলেও তিনি ওই এলাকাতেই অবস্থান করেন বলে জানা যায়। এদিকে পুরো প্রাঙ্গণ ঘিরে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।
একইসঙ্গে বুথফেরত সমীক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের সমীক্ষার মাধ্যমে ভোটার ও কর্মীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে। অতীতের নির্বাচনেও এমন প্রবণতা দেখা গিয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, বেলেঘাটা কেন্দ্রের প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শ্যামপুকুরের প্রার্থী শশী পাঁজা অভিযোগ করেন, সিল করা স্ট্রং রুমের ভেতরে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কিছু ব্যক্তির যাতায়াত দেখা গেছে। তাঁদের দাবি, নজরদারি ফুটেজে এমন কিছু দৃশ্য ধরা পড়েছে যা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। পোস্টাল ব্যালট নিয়েও অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার দাবি তোলেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা। তবে নিরাপত্তা বিধির কারণে তাঁদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানা যায়। এরপর ক্ষোভে তাঁরা গণনাকেন্দ্রের বাইরে অবস্থান শুরু করেন।
পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে পৌঁছন তাপস রায়। একদিকে ‘জয় বাংলা’, অন্যদিকে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাগ্যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্রিয় হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।
পুরো ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এখন নজর, এই সমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কর্তৃপক্ষের তরফে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

No comments:
Post a Comment