দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনা আদৌ ৪ মে হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কারণ মগরাহাট ও ডায়মন্ড হারবারে পুনর্নির্বাচন হয়ে গেলেও ফলতা কেন্দ্র নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি নির্বাচন কমিশন।
কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, ফলতায় প্রায় ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই স্ক্রুটিনি রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত রি-পোলের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, পুনর্নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে কাছের সম্ভাব্য দিন রবিবার হলেও, এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও নির্দেশ জারি হয়নি। ফলে ওই দিনে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলেই মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে রি-পোল হলে তা ৪ মে অথবা ভোটগণনার পরেও হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ৪ মে ফলতা কেন্দ্রের ভোটগণনা হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। হিসেব অনুযায়ী, ওই ৩০টি বুথে গড়ে প্রায় ৭০০ করে ভোটার ধরলে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার। এত বড় অংশের ভোট বাদ দিয়ে গণনা করা বাস্তবে সম্ভব নয়। তাই পুনর্নির্বাচন হলে গণনা পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে যদি রি-পোল না হয়, তাহলে নির্ধারিত দিনেই অর্থাৎ ৪ মে ভোটগণনা সম্পন্ন হতে পারে।
এদিকে, বিরোধী দল বিজেপি ফলতা কেন্দ্রের অন্তত ৬০টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বলে খবর।
উল্লেখ্য, রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন শেষ হলেও ফলতা এলাকায় উত্তেজনা কমেনি। শুক্রবারের পর শনিবারও হাশিমনগর এলাকায় একাধিকবার অশান্তির ঘটনা সামনে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নির্বাচন কমিশন কড়া অবস্থান নিয়েছে।
ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দুই নেতার বিরুদ্ধে দ্রুত এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পুলিশ যদি পদক্ষেপ নিতে গড়িমসি করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে কমিশন।

No comments:
Post a Comment