ন্যাশনাল ডেস্ক, ০২ মে ২০২৬: আইইডি বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল এলাকা। শহীদ ৩ জওয়ান। ছত্তিশগড়ের কাঙ্কের জেলায় ঘটেছে এই ঘটনা। এতে এক ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি) অফিসার-সহ তিনজন জওয়ান শহীদ হয়েছেন। পাশাপাশি এই বিস্ফোরণে আরও একজন জওয়ান আহত হয়েছেন। ৩১শে মার্চ ছত্তিশগড়ে নকশালবাদের অবসানের ঘোষণার পর ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে জওয়ানদের শহীদ বা আহত হওয়ার এটিই প্রথম ঘটনা।
পুলিশ আধিকারিকদের মতে, ছোটেবেঠিয়া থানা এলাকায় কাঙ্কের-নারায়ণপুর জেলা সীমান্তের কাছে একটি ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করতে এবং টহল দেওয়ার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।
পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণে কাঙ্কের ডিআরজি-র চারজন জওয়ান আহত হন। তাঁরা জানান, আহতদের মধ্যে তিনজন—ইন্সপেক্টর সুখরাম ভাট্টি, কনস্টেবল কৃষ্ণ কমরা এবং কনস্টেবল সঞ্জয় গাদপালে—পরে মারা যান, আর পরমানন্দ কমরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বস্তার অঞ্চলের পুলিশ মহাপরিদর্শক সুন্দররাজ পাত্তিলিঙ্গম বলেছেন যে, গত কয়েক মাসে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী ক্যাডারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী বস্তার অঞ্চলে মাওবাদীদের আগে থেকেই লুকিয়ে রাখা শত শত আইইডি উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করেছে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক সুন্দররাজ বলেছেন যে, শনিবার কাঙ্কের জেলা পুলিশের একটি দল একটি আইইডি নিষ্ক্রিয় করার সময় সেটি হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, এ বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
নকশালরা এর আগেও ছত্তিশগড়ের নকশাল-প্রভাবিত এলাকাগুলিতে, বিশেষ করে বস্তার অঞ্চলের জঙ্গলে, বিপুল সংখ্যক ল্যান্ডমাইন পেতে রেখেছে, যা সেখানে মোতায়েন নিরাপত্তা বাহিনী এবং গ্রামবাসীদের জন্য এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ আধিকারিকদের মতে, নিরাপত্তা বাহিনী ওই এলাকায় ক্রমাগত ল্যান্ডমাইন খোঁজা এবং নিষ্ক্রিয় করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ৩০শে মার্চ লোকসভায় বলেছেন যে, দেশে মাওবাদ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। শাহ বলেন যে, নকশখলদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, পলিটব্যুরো এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো এখন প্রায় নির্মূল হয়ে গেছে।

No comments:
Post a Comment