লিওনেল মেসিকে ঘিরে কলকাতার বহুচর্চিত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে রাজ্যে। নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক দায়িত্ব নেওয়ার পরই ওই বিতর্কিত অনুষ্ঠানের সমস্ত নথি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, আগের সরকারের আমলে ক্রীড়া দপ্তরে নানা অনিয়ম ও আর্থিক অস্পষ্টতার অভিযোগ উঠেছিল, তাই পুরো বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
এই পরিস্থিতিতেই সামনে এসে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তদন্তকে তিনি ভয় পান না। বরং তাঁর দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে। যদি কোনও অপরাধ প্রমাণিত হয়, তাহলে আইন যা সিদ্ধান্ত নেবে তিনি তা মেনে নেবেন বলেও জানিয়েছেন।
গত বছর কলকাতায় বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকাকে আনার ঘোষণার পর থেকেই ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানের দিন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে প্রবল বিশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা সমস্যা এবং দর্শকদের ক্ষোভ পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। টিকিট ব্যবস্থা, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং আয়োজন ঘিরে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। পরে এই ঘটনায় উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয় এবং গ্রেফতারিও হয়।
নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার আর্থিক দিক, প্রশাসনিক অনুমতি এবং আয়োজনের দায়িত্ব কারা নিয়েছিল, সবটাই খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে উচ্চপর্যায়ের তদন্তও হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, আগের আমলে ক্রীড়া দপ্তরে স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, যার প্রভাব বড় বড় আয়োজনেও পড়েছে।
অন্যদিকে শতদ্রু দত্তের দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে দায়ী করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, অনেক গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা শেষ মুহূর্তে না পাওয়ার কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তদন্ত হলে কারা দায়িত্ব এড়াতে চেয়েছিল এবং কোথায় প্রশাসনিক ব্যর্থতা ছিল, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই তদন্ত শুধুমাত্র একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠান ঘিরে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং আগের সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। এখন নজর তদন্তের অগ্রগতির দিকে। কারণ এই ফাইল খুললে ক্রীড়া মহল ও রাজনীতির একাধিক প্রভাবশালী নাম সামনে আসতে পারে বলেই জল্পনা শুরু হয়েছে।

No comments:
Post a Comment