বেহালায় তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার প্রভাবশালী কাউন্সিলার, রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, May 24, 2026

বেহালায় তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার প্রভাবশালী কাউন্সিলার, রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল


 কলকাতা পুরসভার এক প্রভাবশালী কাউন্সিলারকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ঘিরে শনিবার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বেহালা এলাকার ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা ১৬ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান সুদীপ পোল্লেকে তাঁর নিজের এলাকা থেকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, দোকান ভাঙার হুমকি এবং এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে তোলাবাজি চালানোর সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেহালার শীলপাড়া ও আশপাশের এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী সম্প্রতি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ব্যবসা চালাতে হলে নিয়মিত টাকা দিতে বাধ্য করা হতো। কেউ আপত্তি জানালে দোকান ভাঙচুর, ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া কিংবা এলাকায় কাজ করতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। কয়েকজন ব্যবসায়ীর দাবি, বহুদিন ধরেই এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এরপর শনিবার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুদীপ পোল্লেকে আটক করা হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তাঁকে থানায় রাখা হয়েছে এবং আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তৈরি হয়েছে এই কারণে যে, কলকাতা পুরসভার দায়িত্বে থাকা কোনও বর্তমান কাউন্সিলারকে এইভাবে গ্রেফতারের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এর আগেও নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে এসেছিলেন সুদীপ পোল্লে। তাঁর বাড়ি ও ঘনিষ্ঠদের একাধিক জায়গায় তল্লাশিও চালানো হয়েছিল। যদিও সেই সময় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তিনি।

বেহালা অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই সুদীপ পোল্লে শাসকদলের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত। প্রায় দেড় দশক ধরে তিনি কাউন্সিলার পদে রয়েছেন। স্থানীয় ক্লাব, বাজার, নির্মাণকাজ এবং বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবা ঘিরে তাঁর প্রভাব ছিল যথেষ্ট বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। বিরোধীদের অভিযোগ, সেই প্রভাবকেই কাজে লাগিয়ে এলাকায় সিন্ডিকেট ও তোলাবাজির জাল গড়ে উঠেছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তোলাবাজি, জমি দখল, সিন্ডিকেট রাজ এবং বেআইনি অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই একাধিক পুর প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। কোথাও বেআইনি নির্মাণ, কোথাও জমি দখল, আবার কোথাও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা তোলার অভিযোগ সামনে এসেছে।

সুদীপ পোল্লের গ্রেফতারির পর বেহালা এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীরা এই ঘটনাকে দুর্নীতির বড় প্রমাণ বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয় দেখানোর রাজনীতি চলছিল, ফলে এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে।

এখন নজর আদালতের দিকে। তদন্তে নতুন কী তথ্য উঠে আসে এবং আরও কারও নাম সামনে আসে কি না, তা নিয়েই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad